Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

কাঁদতে কাঁদতে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা সেই হুমায়ুনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম

উপনির্বাচনের ভোট শেষ হতেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন চমক। পুলিশের সঙ্গে সংঘাত, আটক এবং ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগের একদিন পর এবার রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) প্রধান, নওদার বিধায়ক এবং পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হুমায়ুন কবীর। 

বুধবার (৭ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। 

পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসা হুমায়ুন বলেন, ‘সিপিএমের সময়ে ক্যাডাররা ভোট করত। পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখত। এখন পুলিশ ক্যাডারের ভূমিকায় নামল। এ রাজনীতিতে থাকতে চাই না। আমি রেজিনগরের মানুষের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।’

এমনকি বিধানসভায় না যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, ‘শুভেন্দু অধিকারী যতদিন মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন, ততদিন বিধানসভায় যাবো না’। 

এরআগে গতকাল মঙ্গলবার রেজিনগরে উপনির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর তিনি অভিযোগ করেন, একাধিক বুথে পুলিশ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে এবং তার দলের কর্মী-সমর্থকদের সমস্যায় ফেলা হচ্ছে। 

পরে নিজের দলের কার্যালয়ের বাইরে পুলিশের সঙ্গে সংঘাতের জেরে তাকে আটক করা হয়। প্রায় ১২ ঘণ্টা হেফাজতে থাকার পর বুধবার তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেন।

তবে বুধবারের হুমায়ুনের আচরণের ছিল স্পষ্ট পার্থক্য। সাধারণত আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক বক্তব্যের জন্য পরিচিত এই নেতাকে এদিন দেখা যায় আবেগপ্রবণ অবস্থায়। 

পুলিশের ভূমিকা ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ‘রেজিনগরের ভোট সুষ্ঠুভাবে হয়নি, বিজেপিই জয়ী হবে’।

ভোটের ফল ঘোষণার আগেই এমন দাবি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। রেজিনগরের ভোট গণনা হবে ৯ অক্টোবর। 

রেজিনগর আসনটি হুমায়ুন কবীরের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি একই সঙ্গে নওদা ও রেজিনগর আসনে জয় পেয়েছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী একটি আসন ছাড়তে হয় তাকে। তিনি নওদা আসনটি ধরে রাখায় রেজিনগরে উপনির্বাচন হয়। সেই আসনে এবার তার ছেলে গোলাম নবী আজাদ এজেইউপির প্রার্থী হন।

ফলে ভোটের ফল প্রকাশের আগেই বাবার রাজনীতি ছাড়ার ইঙ্গিত এবং ছেলের নির্বাচনী লড়াই—দুই ঘটনাই রেজিনগরের রাজনীতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। বিশেষ করে উপনির্বাচনের দিন পুলিশের সঙ্গে সংঘাতের পর হুমায়ুনের এমন ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

তবে হুমায়ুন কবীর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতি বা বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেননি। নওদার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। 

সূত্র: আনন্দবাজার, দ্য ওয়াল

এমএইচআর