Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

গৃহবধূকে প্রকাশ্যে যৌনতায় লিপ্ত হতে বাধ্য করে ‘শুদ্ধকরণ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম

প্রেমিকের সঙ্গে পালানোর অভিযোগ গৃহবধূকে ‘শাস্তি’ দিতে এবং ‘শুদ্ধকরণের’ নামে প্রকাশ্যে যৌনতায় লিপ্ত হতে বাধ্য করানোর অভিযোগ উঠল ভারতের গুজরাতে। 

আর এই অভিযোগ উঠেছে ওই নারীর শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি রাজ্যের সুরেন্দ্রনগরের।

শুধু তা-ই নয়, প্রেমিককে ওই নারীর প্রস্রাবও খেতে বাধ্য করা হয়। এই ঘটনায় তরুণীর স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির নয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, ঘটনাটি গত ৪ অক্টোবরের। এক যুবকের সঙ্গে সুরেন্দ্রনগরের ওই নারীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। বাপি নামে এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তরুণীর। 

কিন্তু সংসারে বনিবনা না হওয়ায় বাড়ি ছেড়ে চলে যান তিনি। চটিলা নামে একটি এলাকায় প্রেমিকের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। তিন মাস প্রেমিকের সঙ্গে সেখানে কাটান। 

ওই এলাকায় নারীর খোঁজ পেয়ে তার স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। তার পরই নারীর ওপর অত্যাচার শুরু হয়। ঘরে আটকে রাখা হয়।

পুলিশ এবং স্থানীয়রা জানান, সপ্তাহখানেক আগে ওই নারী কোনো রকমে বন্দি অবস্থা থেকে নিজেকে মুক্ত করে আবার বাড়ি ছেড়ে প্রেমিকের কাছে চলে যান। 

শ্বশুরবাড়ির লোকেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সুরেন্দ্রনগরের একটি বাড়িতে ওই নারী এবং তার প্রেমিকের হদিস পান তারা। তার স্বামী আত্মীয়স্বজনদের ডেকে আনেন। 

তার পর দু’জনকে ধরে নিয়ে আসেন নিজেদের বাড়িতে। ‘শুদ্ধকরণের’ নামে শুরু হয় অত্যাচার। অভিযোগ উঠে, প্রথমে দু’জনকে কাঠের বাটাম দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। 

তার পর যুবককে ওই নারীর সঙ্গে জনসমক্ষে যৌনতায় লিপ্ত হতে বাধ্য করা হয়। সেই ঘটনা ক্যামেরাবন্দি করে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। 

এ ঘটনা দেখে স্থানীয়দের কয়েক জন পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে হাজির হয় পুলিশ।

সুরেন্দ্রনগরের ডেপুটি পুলিশ সুপার প্রেমসুখ ডেলু জানিয়েছেন, একটি ভিডিও তাদের হাতে এসে পোঁছোয়। স্থানীয়দের তরফেও কয়েক জন ফোন করে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসার অনুরোধ করেন। নির্যাতিত ওই নারী এবং যুবককে উদ্ধার করে পুলিশ।

-এমএমএস