Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

পদার্থে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম

২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বেলজিয়ান-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ৩টা ৪৫ মিনিট) বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস।

নোবেল কমিটি জানিয়েছে, দক্ষিণ মেরুর বরফের গভীরে অবস্থিত ‘আইসকিউব নিউট্রিনো পর্যবেক্ষণাগার’ তৈরিতে অসামান্য অবদান এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো কণা আবিষ্কারের জন্য তাকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বলছে, হালজেনের এই দূরদর্শী ভাবনার ফলে দক্ষিণ মেরুর এক ঘন কিলোমিটার হিমবাহের বরফকে একটি বিশাল নিউট্রিনো টেলিস্কোপে রূপান্তরিত করা সম্ভব হয়। এর মাধ্যমে মহাবিশ্বের দূর-দূরান্ত থেকে আসা রহস্যময় নিউট্রিনোগুলোকে শনাক্ত করে জ্যোতির্বিজ্ঞানের সম্পূর্ণ নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

nobel

নিউট্রিনোকে বিজ্ঞানীরা প্রায়ই ‘ভূতুড়ে কণা’ বলে থাকেন। কারণ এই অতিক্ষুদ্র কণা প্রায় কোনো কিছুর সঙ্গেই মিথষ্ক্রিয়া করে না। প্রতি সেকেন্ডে বিপুলসংখ্যক নিউট্রিনো পৃথিবীর মধ্য দিয়ে ছুটে গেলেও তাদের শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। এই দুর্বোধ্য কণার সন্ধানকেই মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণের নতুন এক জানালা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে হালজেনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্রান্সিস হালজেন ১৯৪৪ সালে বেলজিয়ামে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং আইসকিউব প্রজেক্টের প্রধান গবেষক হিসেবে যুক্ত আছেন।

এর আগে ২০২৫ সালে পদার্থবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী— ব্রিটেনের জন ক্লার্ক, ফ্রান্সের মিশেল এইচ ডেভোরেট এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন এম মার্টিনিস। বৈদ্যুতিক সার্কিটে ‘ম্যাক্রোস্কোপিক কোয়ান্টাম মেকানিক্যাল টানেলিং এবং এনার্জি কোয়ান্টাইজেশন’ আবিষ্কারের জন্য তাদের মনোনীত করা হয়।

প্রসঙ্গত, গতকাল সোমবার চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী নাম ঘোষণার মাধ্যমে ২০২৬ সালের নোবেল সপ্তাহ শুরু হয়। মানুষের মস্তিষ্কের কোষ কীভাবে স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে— দীর্ঘদিনের এই রহস্য উন্মোচনের জন্য এবার চিকিৎসায় নোবেল পুরস্কার জিতেছেন ৩ জন বিজ্ঞানী— কার্ল দেইসেরাথ, পিটার হেগেমান এবং জর্জ ন্যাগেল।

এদিকে আগামীকাল বুধবার (৭ অক্টোবর) ঘোষণা করা হবে রসায়নে নোবেল পুরস্কার। বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নজর থাকবে এই ঘোষণার দিকে।

নোবেল সপ্তাহের অন্যতম বহুল প্রতীক্ষিত ঘোষণা সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার। আগামী ৮ অক্টোবর স্থানীয় সময় দুপুর ১টার পর সুইডিশ একাডেমি স্টকহোম  থেকে এ পুরস্কারের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে।

আর আগামী ৯ অক্টোবর ঘোষণা করা হবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম। নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় এ পুরস্কার ঘোষণা করবে।

বিশ্বের চলমান সংঘাত, শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলোর কারণে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা বরাবরই বিশেষ আগ্রহ তৈরি করে। 

সর্বশেষ ১২ অক্টোবর ঘোষণা করা হবে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার। 

বেড়েছে পুরস্কারের অর্থমূল্য

২০২৬ সালে প্রতিটি পূর্ণ নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। পুরস্কারের অর্থ একাধিক বিজয়ীর মধ্যে ভাগ হলে নিয়ম অনুযায়ী তা ভাগ করে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ১৮৯৫ সালে সুইডিশ উদ্ভাবক এবং সমাজসেবী আলফ্রেড নোবেলের উইলের মাধ্যমে নোবেল পুরস্কার প্রতিষ্ঠিত হয়। সুইডিশ শিল্পপতি আলফ্রেড নোবেল ডিনামাইটের উদ্ভাবক। তার মৃত্যুর পাঁচ বছর পর ১৯০১ সাল থেকে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ও সম্মানজনক এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

 

এমএইচআর