আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে, সেই কর্মকর্তা ‘প্রোমোশন’ দিল দিল্লি পুলিশ!
বিতর্কের মুখে পুলিশের অবশ্য ব্যাখ্যা, এটা রুটিন পদোন্নতি। অভিযোগ ওঠার আগেই পদোন্নতির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এই ব্যাখ্যার পরও অবশ্য বিতর্ক থামছে না।
ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার দাবিতে অনড় বিভিন্ন দল এবং সংগঠন।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবং দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) থেকে দিল্লির যন্তর মন্তর চত্বরে বিক্ষোভ শুরু হয়।
পুলিশি বাধা এবং ধরপাকড় সত্ত্বেও শনি, রবি এবং সোমবার সেই বিক্ষোভে ইতি পড়েনি। গত শনিবার বিক্ষোভের খবর কভার করতে যাওয়া তিন মহিলা সাংবাদিক দিল্লি পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তোলেন।
অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম দিল্লি পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসিপি) বিবেক ভগৎ। সোমবার দিল্লি পুলিশের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পদোন্নতি পেয়ে বিবেক অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন। বিবেকের সঙ্গেই পদোন্নতি হয়েছে আরও ১১ জনের।
বিবেক-সহ যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে থানায়। ‘স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের’ স্বার্থে অভিযোগটি ক্রাইম ব্রাঞ্চ বা অপরাধদমন শাখার কাছে পাঠিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
বিরোধী দল, সংগঠন এবং সাংবাদিকদের একাংশ বিবেকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের দাবিতে অনড় থাকলেও এখনও তেমন কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি পুলিশ। তার মাঝেই সোমবার বিবেকের পদোন্নতি হল!
যৌন হেনস্থার অভিযোগের সূত্রে দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বেশ কয়েকজন। রোববার রাতেও বিক্ষোভ চলে। থানার বাইরে অবস্থান চলতে থাকে।
সোমবার সকালে হঠাৎই ধরপাকড় শুরু করে দিল্লি পুলিশ। থানার সামনে জমায়েত করা বিক্ষোভকারী এবং সাংবাদিকদের কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগকারিণী সাংবাদিকও রেহাই পাননি।
রোববার অভিযুক্ত পুলিশ কর্মবর্তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের দাবিতে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে বিক্ষোভ দেখায় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সিজেপি নেতা সৌরভ দাস অভিযোগ করেন, অভিযোগকারিণী এবং তার আইনজীবীরা সঙ্গে থাকলেও পুলিশ কারও সঙ্গে কথা বলতে চাইছে না।
তার পর এসিপি-র বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার আর্জি জানিয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন সিজেপি-র সৌরভ, সিপিএমের বৃন্দা কারাট। তার পরেও পুলিশ অভিযুক্ত এসিপি-র বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেনি। সিজেপি-র অভিযোগ, পুলিশ ওই অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে।
এই ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মুখ খোলা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
প্রসঙ্গত, দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণলেয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন। যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার দাবিও জানিয়েছেন রাহুল। রাহুলের মতে, এটা পুলিশের ন্যূনতম দায়িত্ব।
-এমএমএস