Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

ব্রাজিলে ক্ষমতার লড়াই গড়াল দ্বিতীয় দফায়, মুখোমুখি লুলা-বলসোনারো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২০ এএম

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন দ্বিতীয় দফায় গড়িয়েছে। প্রথম দফায় কোনো প্রার্থীই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় আগামী ২৫ অক্টোবরের রানঅফে মুখোমুখি হচ্ছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ও সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথম দফায় কোনো প্রার্থীই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় আগামী ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে মুখোমুখি হচ্ছেন সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা।

রোববার প্রথম দফার ভোট গণনা শেষে লুলাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যান ফ্লাভিও বলসোনারো। ৯৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ ভোট গণনা পর্যন্ত তিনি পেয়েছেন ৪৭ দশমিক ০৮ শতাংশ ভোট। লুলার ভোট ৪৫ দশমিক ১০ শতাংশ। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ২৩ লাখের বেশি। তবে সরাসরি জয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বৈধ ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি পাননি বলসোনারো। ফলে নির্বাচন গড়ায় দ্বিতীয় দফায়।

নির্বাচনের আগে প্রকাশিত অধিকাংশ জনমত জরিপের ফলের সঙ্গে ভোটের ফলের বড় পার্থক্য দেখা গেছে। জরিপগুলোতে প্রথম দফার ভোটে লুলাকে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রাখা হয়েছিল।

৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও বলসোনারো একজন আইনজীবী ও ফেডারেল সিনেটর। তার বাবা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো তাকে রক্ষণশীল জোটের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বেছে নেন। তিনি লিবারেল পার্টির হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

অল্প বয়সেই রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ফ্লাভিও। রিও ডি জেনেইরো অঙ্গরাজ্যের ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও বাবার আনুষ্ঠানিক সমর্থন পাওয়ার আগ পর্যন্ত জাতীয় রাজনীতিতে তার পরিচিতি তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল।

অপরাধ দমনে কঠোর নিরাপত্তানীতি, বাজারমুখী অর্থনীতি এবং রক্ষণশীল সামাজিক মূল্যবোধকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন তিনি। তবে বাবাকে নিয়ে নির্মিত একটি জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্রকে কেন্দ্র করে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে চলমান তদন্ত নিয়ে তাকে তীব্র সমালোচনা ও নজরদারির মুখে পড়তে হয়েছে।

অন্যদিকে ৮০ বছর বয়সী লুলা দা সিলভা ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা। ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকার পর ২০২৩ সালে আবারও ক্ষমতায় ফেরেন তিনি। এবার চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য লড়ছেন। তার সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে রয়েছেন জেরালদো আলকমিন।

লুলার নির্বাচনী ইশতেহারে সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচি, পরিবেশ সুরক্ষা, শিল্পে বিনিয়োগ এবং বহুপক্ষীয় বাণিজ্য-বিশেষ করে ব্রিকস জোটভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য-অগ্রাধিকার পেয়েছে।

প্রথম দফায় সরাসরি জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও কংগ্রেসের উভয় কক্ষে বলসোনারোর লিবারেল পার্টির শক্তিশালী ফলাফল রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। লুলা দ্বিতীয় দফায় জয়ী হলেও তাকে আরও বিরোধিতাপূর্ণ ও বিভক্ত আইনসভার মুখোমুখি হতে হবে। এতে চতুর্থ মেয়াদে তার সরকার পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

রোববারের নির্বাচনের আগে ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয়গুলোর একটি ছিল নিরাপত্তা। অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের মাধ্যমে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেছেন বলসোনারো। এমনকি ব্রাজিলের মাদক কারবারি চক্রগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষেও মত দিয়েছেন তিনি।

ব্রাজিলের সুপিরিয়র ইলেক্টোরাল কোর্টের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোট পড়েছে নিবন্ধিত ১৫ কোটি ৮৭ লাখ ৪৫ হাজার ৫০২ ভোটারের প্রায় ৭৯ শতাংশ। দেশটির আইনে ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক হওয়ায় এই উপস্থিতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

ডানপন্থীদের কোনো প্রার্থী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হলে তা লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থীদের উত্থানের সাম্প্রতিক প্রবণতাকে আরও বিস্তৃত করবে। গত এক বছরেই কলম্বিয়া, চিলি, হন্ডুরাস ও বলিভিয়ায় বামপন্থী সরকারকে ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা পরাজিত করেছেন। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।

এমআর