আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নদী তীরবর্তী একটি বাজার ও সেতুতে দেশটির সামরিক বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। ওই হামলায় আরও অন্তত ৫৮ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইরাবতী জানিয়েছে, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর উত্তর রাখাইনের কিয়াউকতাও টাউনশিপের কালাদান নদীর তীরে অবস্থিত কিসাপানাদি সেতু এবং ‘ইন্ডিয়ান মার্কেট’ নামে পরিচিত একটি জনাকীর্ণ বাজারে হামলা চালায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর একটি বিমান। এতে সেখানে অবস্থারত পথচারী, বাজারের ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও শ্রমিকরা হতাহত হন।
হামলার পর পুরো এলাকা পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে। আগুনে পুড়ে যায় দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা। প্রাথমিকভাবে ৩৩ জন নিহত ও ৩৬ জন আহত হওয়ার কথা জানানো হলেও পরদিন উদ্ধারকাজে আরও মরদেহ পাওয়ার পর নিহতের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়।
স্থানীয় ত্রাণকর্মী ওয়াই হুন অং জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা চলতে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগুনে কিছু মরদেহ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সব হতাহতের হিসাব দ্রুত নির্ধারণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে রাখাইন নিয়ন্ত্রণে নেওয়া বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) মুখপাত্র খাইন থু খা অভিযোগ করেছেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ঘনবসতিপূর্ণ বাজার, স্কুল, আবাসিক ভবন ও বেসামরিক মানুষের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
হামলার পর প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়ে আরাকান আর্মির মুখপাত্র আরও বলেন, বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে তারা পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সব ধরনের উপায় ব্যবহার করবে।
এ বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের একজন মুখপাত্রের কাছ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, এই হামলা এমন এক সময়ে হলো, যখন মিয়ানমার দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে জর্জরিত। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। আরাকান আর্মিসহ একাধিক জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও অন্যান্য বিদ্রোহী বাহিনী বিভিন্ন ফ্রন্টে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধে প্রায় ১ লাখ মানুষ নিহত এবং ৩৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু. রয়টার্স
এমএইচআর