Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

১৫০০ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠালো মালয়েশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম

জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের তীব্র আপত্তি ও উদ্বেগ উপেক্ষা করেই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করেছে মালয়েশিয়া সরকার। প্রথম দফায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে কুয়ালালামপুর। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া এই প্রত্যাবাসন কর্মসূচি দেশটির সঙ্গে মিয়ানমারের করা একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার প্রথম ধাপ। পুরো কর্মসূচিতে প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কথা রয়েছে।

মালয়েশিয়া সরকার বলছে, প্রত্যাবাসন সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক। তবে মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে সেখানে ফিরে যাওয়া কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা- ইউএনএইচসিআরসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে মালয়েশিয়ার পেরাক রাজ্যের লুমুট নৌঘাঁটির কাছে একটি স্টেডিয়ামে নিরাপত্তা যানসহ বেশ কয়েকটি বাস আসে। পরে তাদের বন্দর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মিয়ানমারের দুটি নৌযান ও একটি হাসপাতাল জাহাজ প্রস্তুত ছিল।

মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বার্নামা জানিয়েছে, প্রথম ধাপে ফেরত পাঠানো ১ হাজার ৪৭৬ জন রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১ হাজার ৩৭০ জন পুরুষ, ৭৯ জন নারী, ২০ জন ছেলে ও ৭ জন মেয়ে শিশু রয়েছে। তাদের বয়স ৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। 

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিয়ানমার সরকারই প্রত্যাবাসনের জন্য এসব ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে। পরবর্তী ধাপগুলোতে পরিচয়, নথিপত্র ও তথ্য যাচাইয়ের পর আরও মানুষকে ফেরত পাঠানো হবে। তবে এই প্রক্রিয়ায় ইউএনএইচসিআরের সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। 

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাটি আগেই সতর্ক করে বলেছিল, মিয়ানমারে চলমান সশস্ত্র সংঘাত ও সহিংসতার কারণে দেশটি থেকে শরণার্থীদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি উপযোগী নয়। 

ইউএনএইচসিআর আরও জানিয়েছে, ফেরত পাঠানো রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়ায় তারা অংশ নেয়নি।

এদিকে মালয়েশিয়া অবশ্য নিজেদের অবস্থানের পক্ষে আর্থিক ও নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়েছে। 

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়টি ঝুলে থাকায় সরকারের ওপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে এবং সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত সংকটও দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অনলাইন বিদ্বেষমূলক প্রচারণা ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটিতে তাদের ওপর হয়রানি ও সামাজিক চাপও বেড়েছে।

তবে মঙ্গলবার যাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে তাদের জাতিগত পরিচয়, শরণার্থী মর্যাদা বা তাদের মধ্যে রোহিঙ্গারা আছে কিনা, সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।

ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় বর্তমানে মিয়ানমারের প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার নিবন্ধিত শরণার্থী রয়েছে। তাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রোহিঙ্গা। 

গত জুলাই মাসে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমব লেছিলেন, মিয়ানমার ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। মঙ্গলবার প্রত্যাবাসনের জন্য বাছাই করা প্রায় ১৫০০ জন এই দলেরই অংশ বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে আশ্রয়প্রার্থী বা ইউএনএইচসিআর-স্বীকৃত শরণার্থী থাকলে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। 

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মালয়েশিয়া এবং অ্যাসাইলাম অ্যাক্সেস মালয়েশিয়া একটি যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, যদিও মালয়েশিয়া জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী দেশ নয়, তবে এই প্রত্যাবাসন ‘নন-রিফুলেমেন্ট’ নীতি লঙ্ঘন। 

সংগঠন দুটি জানতে চেয়েছে, প্রত্যাবাসনের জন্য ব্যক্তিদের কীভাবে শনাক্ত করা হয়েছে এবং মিয়ানমারে পৌঁছানোর পর তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কী ব্যবস্থা রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা

এমএইচআর