আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার ঘটনাকে ‘কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত’ বিষয় হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে ইসলামাবাদ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘পাকিস্তান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক রীতিনীতির প্রতি অবিচলভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কূটনৈতিক ফ্লাইট এবং আকাশসীমা অতিক্রমের (ওভারফ্লাইট) অনুমতি সংক্রান্ত যাবতীয় আবেদন/অনুরোধ আমাদের প্রতিষ্ঠিত নিয়ন্ত্রণমূলক নির্দেশিকা ও বেসামরিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত প্রোটোকল মেনে একটি সুনির্দিষ্ট ও প্রত্যাশিত সময়সীমার মধ্যে পর্যালোচনা ও প্রক্রিয়াজাত করা হয়।’
হাইকমিশন বলছে, ‘বিভিন্ন প্রতিবেদনে যা এসেছে, তা মূলত ফ্লাইট রুট বা যাত্রাপথ এবং আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতির মতো কারিগরি ও পদ্ধতিগত ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ রকম পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে এবং এর ফলে ফ্লাইটসূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।’
এর আগে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছিলেন, ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি কার্গো বিমানের ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে সেটি আসতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তান কেন ওই অনুমতি দেয়নি, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি। একটি নতুন তারিখ প্রস্তাব করেছে রাশিয়া। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে চালানটি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।’
এছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, চালানটি গ্রহণের জন্য ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। পরে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা— রোসাটমের যোগাযোগ কর্মকর্তার কাছ থেকে জানানো হয়, নির্ধারিত রুটের আকাশসীমা পরিষ্কার না থাকায় ফ্লাইটটি পাঠানো সম্ভব হয়নি।
তবে পাকিস্তান হাইকমিশন বিষয়টিকে দুই দেশের সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত না করার আহ্বান জানিয়েছে।
হাইকমিশন বলেছে, ‘পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে তার সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং তাই বিষয়টিকে এর যথাযথ প্রযুক্তিগত প্রেক্ষাপটে দেখাই সমীচীন হবে। এমন কোনো প্রতিবেদন বা বয়ানকে অযথা গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়, যা আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে এটিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করতে পারে।’
এদিকে রোসাটম জানিয়েছে, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। বিকল্প রুট ব্যবহারের কথাও জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প।
পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশীতে পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। ফলে দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে পৌঁছায়। রোসাটমের নভোসিবির্স্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে তৈরি ১৬৪টি ফ্রেশ ফুয়েল অ্যাসেম্বলি নিয়ে একটি বিশেষ রুশ কার্গো বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
পরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় তেজস্ক্রিয়তা-প্রতিরোধী কন্টেইনারে করে সেগুলো রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে এরই মধ্যে জ্বালানি লোডিং শুরু হয়েছে এবং প্রকল্পটি কমিশনিং পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে।
এমএইচআর