আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১১ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বিমান নিষেধাজ্ঞার পরও ইরানের রাজধানী তেহরানের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এখনো চালু রয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, বিদেশগামী মোট ফ্লাইটের প্রায় ৭৫ শতাংশ এখনো এই বিমানবন্দর দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
রোববারের ফ্লাইট সূচি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ইরানের বিমান সংস্থাগুলো ১৯টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যের মধ্যে অন্তত ১১টিতে যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এসব গন্তব্যে মোট অন্তত ২৪টি আসা-যাওয়ার ফ্লাইট ছিল। অর্থাৎ সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও ইরানের আকাশ যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি।
ফার্স জানিয়েছে, চালু থাকা গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, চীন, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, ম্যাকাও, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, রাশিয়া, থাইল্যান্ড, তিউনিসিয়া, তুরস্ক, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ইরানের বিমান যোগাযোগ এখনো বজায় রয়েছে।
তবে আজারবাইজান, জর্জিয়া, ইরাক, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমানবন্দরগুলো ইরানি এয়ারলাইনগুলোর সব ফ্লাইট বাতিল করেছে বলে জানিয়েছে ফার্স।
এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের বেসামরিক বিমান খাত সংশ্লিষ্ট ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। এর মধ্যে ইরানের ২৭টি এয়ারলাইন্স এবং দেশটির বিমান চলাচল খাতকে সহায়তা করা ইরানের বাইরের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও ছিল।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, ইরান তাদের বেসামরিক বিমান খাতকে অবৈধ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা কিছু প্রতিষ্ঠানকে বিমান ও সংবেদনশীল প্রযুক্তি সংগ্রহে সহায়তার অভিযোগও করেছে ওয়াশিংটন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট বলেন, ‘২৩ সেপ্টেম্বর থেকে সব ইরানি এয়ারলাইন বিশ্বজুড়ে বন্ধ হয়ে যাবে’।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্বের কোনো দেশ নিজেদের বিমানবন্দরে ইরানি বিমান অবতরণের অনুমতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং টিকিট বিক্রির সুবিধা দিলে সংশ্লিষ্ট দেশ ও প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন ডলারভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ইরানের বিমান খাত বহু বছর ধরেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সংকটে রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে নতুন বিমান কেনা, যন্ত্রাংশ সংগ্রহ এবং রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনায় দেশটির এয়ারলাইনগুলো নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজারবাইজান ও জর্জিয়া ইরানি বিমান চলাচল স্থগিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ইরানের কিছু ফ্লাইট ইরাক, ওমান ও অন্যান্য গন্তব্যেও বাতিল হয়েছে।
তবে একই সময়ে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের বিমান যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক ফ্লাইট-সূচিতে তেহরান থেকে চীনের গুয়াংজু ও সাংহাইয়ের মতো গন্তব্যে ফ্লাইট দেখা গেছে। তুরস্কের ইস্তাম্বুলেও একাধিক ফ্লাইট পরিচালনার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যদিও কিছু ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
এর আগে ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির বিমান চলাচল ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়নি।
তেহরানের ইমাম খোমেনি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী রামিন কাশেফ আজার দাবি করেন, ইরানি বিমান সংস্থাগুলো এখনো ৩০টির বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
তবে বিমান চলাচলের এই চিত্র দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। কারণ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধু গন্তব্য দেশের অনুমতিই নয়, মাঝপথের দেশগুলোর আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতিও প্রয়োজন হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে তুর্কমেনিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় তেহরান-দুশানবে একটি ফ্লাইট মাঝপথ থেকে ফিরে আসার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ না হলেও তা আগের তুলনায় অনেক বেশি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা, ডন
এমএইচআর