আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
কোনো প্রতিবেশী দেশ (পাকিস্তান) সন্ত্রাসবাদে মদদ দিতে থাকলে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় হামলা চালাতে নয়াদিল্লি প্রস্তত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
এনডিটিভি ডিফেন্স সামিটে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। রাজনাথ সিং বলেন, ভারত শান্তিতে বিশ্বাস করে এবং যুদ্ধ বা অন্য দেশের ভূখণ্ড দখল করতে চায় না। তবে শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
তিনি বলেন, ‘ভারত শান্তি চায়, যুদ্ধ চায় না। আমরা অন্য দেশের ভূখণ্ড দখল করতে চাই না, কাউকে হুমকিও দিতে চাই না। তবে নীরব থাকা আর দুর্বলতার মধ্যে পার্থক্য আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শান্তি চাই, কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করব না। যতদিন আমাদের কোনো প্রতিবেশী দেশ সন্ত্রাসবাদে মদদ দেবে, ততদিন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেকোনো হামলার জন্য আমরা প্রস্তুত থাকব—এ কথা তাদের এবং বিশ্ববাসীকে জানাতে চাই।’
রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্যে প্রতিবেশী দেশ বলতে পাকিস্তানের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারত দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান বা পাকিস্তানভিত্তিক বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ভারতে হামলা চালানোর অভিযোগ করে আসছে। পাকিস্তান এসব অভিযোগের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিরোধিতা করে আসছে।
ভারতের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র পাহেলগামে পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এতে একজন নেপালি নাগরিকসহ ২৬ জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
এর জবাবে ভারত পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে ভারত জানিয়েছিল। মুজাফফরাবাদ, কোটলি, বাহাওয়ালপুর, রাওয়ালাকোট, চাকসওয়ারি, ভিম্বার, নীলম ভ্যালি, ঝেলাম ও চাকওয়ালসহ বিভিন্ন স্থানকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা জানানো হয়।
রাজনাথ সিং বলেন, ভারত আলোচনায় বিশ্বাস করে এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা করতে চায়। তবে কোনো দেশ সন্ত্রাসবাদে মদদ দিলে সেই সংলাপ আর চলবে না।
তিনি বলেন, ভারত সংলাপে বিশ্বাস করে। কিন্তু কোনো দেশ সন্ত্রাসবাদে মদদ দিলে সেখানেই সংলাপের অবসান হবে। ভারত সহযোগিতা চায়, তবে জাতীয় স্বার্থের বিনিময়ে নয়।
এনডিটিভি ডিফেন্স সামিটে ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, সামরিক প্রস্তুতি ও প্রতিরক্ষা শিল্প নিয়ে দেশটির সামরিক কর্মকর্তা, প্রতিরক্ষা খাতের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা আলোচনা করেন।
-এমএমএস