আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে জাতিগত হিংসা। মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি কামজং জেলার পিলং গ্রামের নিকটবর্তী এলাকায় সন্দেহভাজন উগ্রপন্থীদের গুলিতে চার নাগা নাগরিক নিহত হয়েছেন।
একই সময়ে পার্শ্ববর্তী কাংপোকপি জেলার তিনটি গ্রামে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে অন্তত ৪০টি বাড়ি, একটি গির্জা এবং বেশ কিছু সরকারি স্থাপনা জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
আকস্মিক এই হামলায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন বহু সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্র ও জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কামজং জেলার পিলং এলাকায় সন্দেহভাজন কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের অতর্কিত হামলায় চারজন সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারান। নিহত ব্যক্তিরা হলেন—ফামি জাজো, নিংথেম, বেটারসন জাজো এবং ভারেইশিম জাজো।
এদিকে, কাংপোকপি জেলার মাকুই চাম্রিউপিউ, মাকুই থানাম্বা এবং মাকুই থেব্রাম গ্রামে গত ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর দফায় দফায় এই তাণ্ডব চালানো হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, মাকুই চাম্রিউপিউতে ১৭টি, মাকুই থানাম্বায় ৮টি এবং মাকুই থেব্রাম গ্রামে ১৬টি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, একটি গির্জা ও একটি সরকারি হাসপাতালেও অগ্নিসংযোগ করা হয়। গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটা থেকে শুরু হয়ে রাত আড়াইটা পর্যন্ত টানা প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে এই তাণ্ডব চলে।
তা ছাড়া, গত ২৩ সেপ্টেম্বর তামেই মহকুমার লাসানে ওয়াকোটফাই এলাকার বাসিন্দা পাওজাঙ্গাম চংলোই নামের এক ব্যক্তিকেও হত্যা করা হয়।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন নাগা পিপলস ফ্রন্টের বিধায়ক অবাংবাউ নিউমাই। তিনি কামজং ও কাংপোকপির সাম্প্রতিক সহিংসতার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে হিংসার পথ ছেড়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং এই হত্যাকাণ্ডের কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, সমাজে এ ধরনের পাশবিক সহিংসতার কোনো স্থান নেই এবং সরকার এটি কোনোভাবেই সহ্য করবে না।
উল্লেখ্য, মণিপুরে ২০২৩ সালের মে মাস থেকে জাতিগত সংঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতা চলছে।
বিভিন্ন এলাকায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির ঘটনায় বহু মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। নতুন করে এই হামলার ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
-এমএমএস