আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩০ এএম
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াইয়ে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির’ সদস্য বাকি দুই দেশ পাকিস্তান ও তুরস্ক।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবে তিন দেশের সামরিক প্রধানদের বৈঠকে দেশটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়, বৈঠকে অংশ নেন পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, সৌদি আরবের চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল ফাইয়াদ আল-রুওয়াইলি এবং তুরস্কের চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বাইরাকতারওগলু।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, বৈঠকে সৌদি আরবের মুখোমুখি হওয়া বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকি পর্যালোচনা করা হয়। এসময় তিন দেশের সামরিক প্রধানরা সৌদি আরবের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সম্মিলিত প্রতিরক্ষার প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এছাড়াও পবিত্র মক্কা নগরী এবং সৌদি আরবের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হামলার নিন্দা জানান সামরিক প্রধানরা।
এদিকে পাকিস্তানের সেনা বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামরিক সমন্বয় এবং তিন দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অঙ্গীকারগুলোকে কার্যকর সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইউনিফর্ম পরা তিনজন সামরিক কর্মকর্তার ছবি প্রকাশ করেছে, তবে বৈঠকটি কবে ও কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল তা জানায়নি।
মূলত, সৌদি ভূখণ্ডে সপ্তাহব্যাপী ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর তুরস্ক ও পাকিস্তানের সামরিক প্রধানদের বৈঠকে বসার জন্য সৌদি আরবের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
এরআগে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বৈঠক করেন। সেখানে তিন দেশের সেনাপ্রধানদের জরুরি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বৈঠকের উদ্দেশ্য হলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে সহায়তার উপায় নিয়ে আলোচনা করা। যেখানে বলা হয়েছে যে কোনো এক পক্ষের ওপর যেকোনো আক্রমণকে সকল পক্ষের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে’।
প্রসঙ্গত, গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
গত ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে চুক্তির আওতায় প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে জোটের সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নওমান মাহমুদকে জোটের প্রথম মহাসচিব নিয়োগ করা হয়েছে।
চুক্তির আওতায় সামরিক সহযোগিতা, সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে চুক্তির আওতায় সৌদি আরব কী ধরনের সামরিক সহায়তা চাইছে বা তিন দেশ কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
যদিও হুথির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তান ও তুরস্ক এই যুদ্ধে অংশ নিলে তাদের ‘লৌহ হস্ত’ দিয়ে মোকাবিলা করা হবে।
সূত্র: আলজাজিরা, ডন
এমএইচআর