আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৭ এএম
পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির প্রবাহ বন্ধ, বাধাগ্রস্ত বা অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার যেকোনো চেষ্টা ‘যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শেহবাজ বলেন, ‘পানিকে কখনোই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। নদীর কাজ হলো জাতির জীবন ও অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করা, বিভক্ত করা নয়। সুতরাং, পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির অংশ বন্ধ করা, বাধা দেওয়া বা তার গতিপথ পরিবর্তন করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এ বিষয়ে ভারতকে কোনো ভুল করা চলবে না।’
পানি নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের বিরোধ নতুন নয়। তবে গত বছর দুই দেশের সামরিক সংঘাতের পর বিষয়টি আরও তীব্র হয়েছে। পাহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
নয়াদিল্লি ওই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসলামাবাদ। এরপর থেকেই সিন্ধুর নদের পানি নিয়ে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি কঠোর বক্তব্য সামনে আসছে।
আরও পড়ুন
পানি নিয়ে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের ভবিষ্যৎ কী?
সিন্ধু নদে 'পাথরের বাঁধ' দিল ভারত, পাকিস্তানের জন্য কতটা উদ্বেগের?
শেহবাজ তার ভাষণে ভারতের ওই সিদ্ধান্তকে একতরফা বলে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ এবং নেদারল্যান্ডের হেগে অবস্থিত স্থায়ী সালিশি আদালত- ‘পারমানেন্ট কোর্ট অব অরবিট্রেশনের’ সিন্ধুর পানি প্রবাহে ভারত বাধা দিতে পারবে না বলে রায় দিয়েছে।
তবে ভারত সালিশি আদালতের রায় সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। নয়াদিল্লির দাবি, এই সালিশি আদালতের ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপর কোনো এখতিয়ারই নেই।
প্রসঙ্গত, সিন্ধু এবং তার উপনদীগুলোর পানি বণ্টনের জন্য বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী— সিন্ধু অববাহিকার রাভি (ইরাবতী), বিয়াস (বিপাশা) ও সুতলেজ (শতদ্রু) নদীর পানি ভারতের জন্য বরাদ্দ। আর সিন্ধু, ঝেলাম ও চেনাব নদীর ৮০ শতাংশ পানি পায় পাকিস্তান।
এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে একাধিক যুদ্ধ ও দীর্ঘ রাজনৈতিক উত্তেজনার পরও টিকে ছিল। তবে চলতি বছরের গত ২২ এপ্রিল ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলার পরেই পাকিস্তানকে দায়ী করে সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত করে মোদি সরকার।
ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদকে মদত দেওয়া বন্ধ না করা পর্যন্ত এই চুক্তি স্থগিত থাকবে।
সূত্র: ডন, আলজাজিরা
এমএইচআর