Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

৭ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম

নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করা হলে সাত দিনের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর প্রস্তাবও দিয়েছে দেশটি।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে থাকা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস ও ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি পরিকল্পনা পাঠানো হয়েছে। নির্দিষ্ট শর্তগুলো পূরণ করা হলে সপ্তম দিনের শেষে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা আবার শুরু হতে পারে।’

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরানের নতুন প্রস্তাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সাত দিনের জন্য সব ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। এর আওতায় লেবাননসহ সংঘাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও সামরিক অভিযান বন্ধের দাবি রয়েছে। 

পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে জব্দ থাকা ইরানের অন্তত ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড়, ইরানি তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ বন্ধ করার দাবিও রয়েছে।

আরাঘচি জানান, প্রস্তাবটির বিষয়ে ওয়াশিংটনের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান। তাঁর দাবি, চীনও এই উদ্যোগকে সমর্থন করছে। 

এর আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন আরাঘচি। 

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটির বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও জানিয়েছেন, তেহরান যুদ্ধের পরিবর্তে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে ইরানের অবস্থান হলো, নিষেধাজ্ঞা ও মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল থাকলে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচলের বিষয়ে তারা ছাড় দেবে না।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে এর প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল-গ্যাস পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান। বিশ্বের মোট তেল-গ্যাস রফতানির প্রায় ২০ শতাংশই এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত জুনে দুই দেশ যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিল। 

তবে পরবর্তী সময়ে সামরিক উত্তেজনা ও হরমুজ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে মতবিরোধের কারণে সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়। এতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গেছে। 

সূত্র: ডন, আলজাজিরা

এমএইচআর