Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসারে কাজ কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। 

জাতিসংঘের নিয়ম ও আন্তর্জাতিক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনুসরণ করে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে বিভিন্ন পদে মোট ৪০ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের মধ্যে জাইমা রহমানসহ ছয়জন বাংলাদেশি বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন। এরমধ্যে বাংলাদেশের কূটনীতিক আবদুল আলিম দায়িত্ব পেয়েছেন ডেপুটি চিফ অব ক্যাবিনেট হিসেবে। এছাড়াও অফিসের উপদেষ্টা ও প্রশাসনিক সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মোয়াজ্জেম হোসেন।

লিগ্যাল অফিসারের মূল কাজ কী?

সহজভাবে বললে, লিগ্যাল অফিসার হলেন সভাপতির কার্যালয়ের আইনি পরামর্শদাতা। সভাপতির কার্যালয়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, নথি, চুক্তি কিংবা আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং সাধারণ পরিষদের বিধি ও কার্যপ্রণালির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—তা যাচাই করা এই পদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। 

অন্যদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নিজে সাধারণ পরিষদের আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন, বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ রাখেন। ফলে এসব কাজের সঙ্গে যুক্ত আইনি বিষয়গুলোতে সভাপতির কার্যালয়কে পরামর্শ দেওয়ার প্রয়োজন হয়।

image

জাইমা রহমানের দায়িত্বের মধ্যে আরও থাকতে পারে সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব, সিদ্ধান্ত, চুক্তি ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক নথির আইনি দিক পর্যালোচনা করা। কোনো নথির ভাষা বা সিদ্ধান্ত জাতিসংঘের বিধি, আন্তর্জাতিক আইন কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, সেটিও তিনি পরীক্ষা করতে পারেন।

এছাড়া সভাপতির কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা বা অন্য অংশীদারের সঙ্গে কোনো সমঝোতা বা চুক্তি নিয়ে কাজ হলে তার আইনি কাঠামো পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের ক্ষেত্রেও লিগ্যাল অফিসার ভূমিকা রাখতে পারেন।

সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে কীভাবে ভূমিকা রাখবেন?

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিশ্বের ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্র অংশ নেয়। সেখানে বিভিন্ন প্রস্তাব, সিদ্ধান্ত, ঘোষণা ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। এসব কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ও পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়।

কোনো প্রস্তাব কীভাবে উপস্থাপন হবে, কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া কী হবে কিংবা সভাপতির কার্যালয়ের কোনো পদক্ষেপ জাতিসংঘের নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—এ ধরনের প্রশ্নে আইনি ব্যাখ্যা প্রয়োজন হতে পারে। সেই জায়গাতেই লিগ্যাল অফিসারের পেশাগত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

তবে জাইমা রহমান সাধারণ পরিষদের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর হয়ে আইনজীবী হিসেবে কাজ করবেন না। তার দায়িত্ব সভাপতির কার্যালয়কে আইনি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া।

আইন পেশায় জাইমা রহমানের অভিজ্ঞতা

জাতিসংঘের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাইমা রহমান একজন ব্যারিস্টার এবং আইন ও নীতিবিষয়ক পেশাজীবী। তিনি লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি থেকে আইন ও রাজনীতি বিষয়ে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ‘দ্য অনারেবল সোসাইটি অব দ্য ইনার টেম্পল’ থেকে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ব্যারিস্টারি করার যোগ্যতা অর্জন করেন।

যুক্তরাজ্যে তার পেশাগত অভিজ্ঞতার মধ্যে আবাসন, জনকল্যাণ ও শ্রম আইন রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে আইনি পরামর্শ এবং সামাজিক কল্যাণ ও শিক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়ে প্রো বোনো, অর্থাৎ বিনামূল্যে আইনি সেবা দেওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে।

জাতিসংঘের প্রকাশিত তথ্যের বরাতে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা- বাসস জানিয়েছে, বাংলাদেশেও তিনি সাংবিধানিক, করপোরেট ও বাণিজ্যিক আইন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) এবং কর-সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করেছেন।

সূত্র: ইউএন ক্যারিয়ার, বিএসএস

এমএইচআর