আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার বহুল আলোচিত ও হাই-স্টেকস দ্বিপক্ষীয় সম্মেলন শুরু হয়েছে। দুই দেশের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক মারমুখী অবস্থানের মধ্যে বিশ্ববাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন এই দুই বিশ্বনেতা।
শীর্ষ বৈঠক শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন তাদের মধ্যেকার বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২০২৭ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়াতে সম্মত হয়েছে।
বৈঠকের মূল সিদ্ধান্ত ও সমঝোতা
১. বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি প্রসারিত
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট নিশ্চিত করেছেন যে, বিগত বছরের বুসান সম্মেলনে দুই দেশের মধ্যে যে এক বছরের বাণিজ্য শুল্ক বিরতি চুক্তি হয়েছিল— যার মেয়াদ আগামী ১০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল— তা বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে দুই পক্ষই অতিরিক্ত শুল্ক ও বিরূপ বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে নতুন ও দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ সুগম করল।
২. কৃষি ও বিমান খাত
বেইজিং বৈঠকের ধারাবাহিকতায় চীন মার্কিন সয়াবিনসহ বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য ক্রয় এবং বোয়িং থেকে ২০০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি বজায় রেখেছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কে ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে।
৩. প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
দুই নেতা জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি এবং প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ নিয়ন্ত্রণে একটি যৌথ ‘এআই ডায়ালগ’ ও জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি বিষয়ক নোটিফিকেশন মেকানিজম গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।
৪. কৌশলগত স্থিতিশীলতা ও তাইওয়ান পরিস্থিতি
বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বমঞ্চে ‘প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে অংশীদার’ হিসেবে কাজ করা উচিত। তাইওয়ান বিষয়ে শি জিনপিং মার্কিন নীতিতে স্পষ্টতার তাগিদ দিলেও, ট্রাম্প প্রশাসন ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা ও এশীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা কমানোর ওপর জোর দিয়েছে।
প্রতিক্রিয়া ও গুরুত্ব
এই শীর্ষ বৈঠককে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখছেন। জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রিউসে ট্রাম্প কর্তৃক শি জিনপিংকে লাল গালিচা সংবর্ধনা প্রদান দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দেয়। অর্থনৈতিক সংকট সমাধান এবং বিরল মৃত্তিকা (Rare Earth Minerals) সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক রাখতে দুই পক্ষই আগামী দিনগুলোতে বিস্তারিত আলোচনায় বসবে।
তথ্যসূত্র: ফিনান্সিয়াল টাইমস, পিবিএস নিউজআওয়ার, দ্য জাপান টাইমস
এফএ