আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ঘোষিত লংমার্চকে ঠেকাতে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। পিটিআই সমর্থকদের দুই শহরে প্রবেশ ঠেকাতে ৪৩ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরেুতে ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আগামী রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ইসলামাবাদমুখী লংমার্চের ডাক দেয় পিটিআই।
দলটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলী খান মার্চটিকে শান্তিপূর্ণ রাখার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আইনের শাসন ও সংবিধানের প্রাধান্য বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে দলটি।
ইতোমধ্যেই খাইবার পাখতুনখাওয়া থেকে একটি কেন্দ্রীয় বহর রাজধানীর ইসলামাবাদের দিকে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকেও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের বহর এতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে কর্মসূচিকে ঘিরে পাকিস্তান সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যেই ইমরান খানের তিন বোন আলিমা খান, উজমা খান এবং নুরিন নিয়াজিকে আটক করা হয়েছে।
ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাওয়ালপিন্ডি ডিভিশনে মোতায়েনের জন্য নির্ধারিত ৪৩ হাজারের বেশি পুলিশের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার সদস্য থাকবেন অ্যাটকে। এর মধ্যে এম-১ মহাসড়কের বিভিন্ন প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় ১৪ হাজার ২৫০ জন, এন-৫ ও এন-৮০ রুটে ১১ হাজার ৪৫০ জন এবং এম-১৪ করিডোরে প্রায় ৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব সদস্যকে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জামসহ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুধু রাওয়ালপিন্ডি জেলাতেই ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের মধ্যে ২৬টি প্রবেশপথে প্রায় ৩ হাজার ১০০ জন, শহরের ৭৩টি অবরোধ পয়েন্টে ১ হাজার ৮০০ জন এবং ১৫২টি পুলিশ পিকেটে ৩ হাজার ৭৩৮ জন মোতায়েন থাকবেন। দুই শহরের সংযোগকারী সড়ক ও গলিতে আরও ৩০০ জন এবং বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া দলের সদস্য হিসেবে ১ হাজার ৬৭৪ জন দায়িত্ব পালন করবেন।
মুর্রিতে ১৬টি অবরোধ পয়েন্টে ২২৪ জন, ঝেলমে নয়টি পয়েন্টে ১ হাজার ৪০০ জন এবং চকওয়ালে ১০টি পয়েন্টে ৩৫২ জন পুলিশ মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এক্সপ্রেস ট্রিবিউন আরও জানিয়েছে, নিরাপত্তা প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিপুল পরিমাণ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জামও মজুত করা হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডি অঞ্চলের পাঁচ জেলায় বর্তমানে ৬৬৬টি টিয়ার গ্যাস গান, ৫২ হাজার ১১৮টি দূরপাল্লার শেল, ৭ হাজার ২৪৩টি স্বল্পপাল্লার শেল, গ্যাস মাস্কসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম রয়েছে। পাশাপাশি আরও ৫৭ হাজার রাবার বুলেট, ৭১ হাজার টিয়ার গ্যাস শেল, ১ হাজার ২০০টি টিয়ার গ্যাস গ্রেনেড, হাজার হাজার গ্যাস মাস্ক ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জাম চাওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ ছয়টি সাঁজোয়া যান, দুটি জলকামান, ২০টি প্রিজন ভ্যান, ৫০টি মেগাফোন এবং ড্রোনসহ অতিরিক্ত লজিস্টিক সহায়তাও চেয়েছে। অ্যাটকে ইতোমধ্যে পুলিশ সদস্যরা পৌঁছেছেন এবং পালাক্রমে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে রাওয়ালপিন্ডি অঞ্চল ও মিয়ানওয়ালিতে রেঞ্জার্স মোতায়েনের জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে রাজধানী ইসলামাবাদেও নিরাপত্তা প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ইসলামাবাদে বিক্ষোভকারীদের প্রবেশ ঠেকাতে গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড এবং প্রধান এক্সপ্রেসওয়েসহ গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলো দুই হাজারেরও বেশি শিপিং কন্টেনার ও বালুর বস্তা বসিয়ে পুরোপুরি সিল করে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও রাজধানীতে মোতায়েন দায়িত্বরত ২২ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মীর জন্য ১ লাখ ১০ হাজার টিয়ার গ্যাস শেল এবং টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপে সক্ষম ১ হাজার ৩০০টি রাইফেল প্রস্তুত রেখেছে। পাশাপাশি দুই লাখের বেশি মাটিভর্তি ব্যাগও প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সরকারের এতসব কঠোর বিধিনিষেধ পরেও পিটিআই নেতৃত্ব তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি থেকে সরে আসেনি। দলটির নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়েই দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও ইসলামাবাদ অভিমুখে লং মার্চ অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, ডন
এমএইচআর