Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব নোমান মাহমুদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৫ এএম

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপাক্ষিক ঐতিহাসিক মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে নিয়োগের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সাধারণ সচিবালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন নোমান মাহমুদ।

তিনি ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ইসলামাবাদে সেনাবাহিনীর পরিচালিত জাতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনডিইউ) প্রেসিডেন্ট ছিলেন। 

১৯৮৭ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া নোমান মাহমুদ ২০২৩ সালে অবসরে যান। খবর আনাদোলুর।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যৌথভাবে বহুল আলোচিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করেন।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, সদস্য দেশগুলোর যৌথ প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য। 

এই চুক্তির একটি অন্যতম ধারা হলো, স্বাক্ষরকারী যেকোনো একটি দেশের ওপর সামরিক হামলা হলে, তা জোটের সব সদস্যদেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

কিন্তু সৌদি আরবে সম্প্রদি ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের ভয়াবহ হামলার সময় কেবল নিন্দা জানানো ছাড়া তুরস্ক ও পাকিস্তানকে আর কিছুই করতে দেখা যায়নি।

‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ হলো মুসলিম বিশ্বের তিনটি প্রভাবশালী সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির ত্রিপাক্ষিক নিরাপত্তা জোট। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ অর্থনীতি সৌদি আরব, ন্যাটো সদস্য ও সামরিক প্রযুক্তিতে স্বাবলম্বী দেশ তুরস্ক এবং পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তান।

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করতে তুরস্ককে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে এই জোট গঠন করা হয়। 

ইসলাম ধর্মের পবিত্রতম নগরী মক্কায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটি ‘মক্কা জোট’ নামে পরিচিতি পায়।

পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর বিখ্যাত ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের আদলে এই জোট তৈরি করা হয়েছে। জোটের বিধান অনুযায়ী, স্বাক্ষরকারী কোনো এক দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো সশস্ত্র আগ্রাসনকে তিন দেশের ওপরই হামলা বলে গণ্য করা হবে।

কেবল সীমান্ত বা আকাশ প্রতিরক্ষা নয়, জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদান, যৌথ সামরিক মহড়া, ড্রোন প্রযুক্তির আদান-প্রদান এবং যৌথভাবে আধুনিক সমরাস্ত্র উৎপাদনের লক্ষ্যে এই চুক্তি কাজ করছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক অস্থিরতা, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি মোকাবিলায় পশ্চিমা শক্তির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যেই সৌদি আরব এই উদ্যোগ জোরদার করেছে। 

বিশ্ব রাজনীতিতে একে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও নজিরবিহীন একটি সামরিক জোট হিসেবে দেখা হচ্ছে।

-এমএমএস