Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

চলন্ত স্লিপার বাসে আগুন, ঘুমের মধ্যেই পুড়ে মরল ৯ যাত্রী!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৩ এএম

ভারতের উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় একটি পর্যটকবাহী স্লিপার বাসে আগুন লেগে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। 

এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ সময় অনেকে বাস থেকে ঝাপিয়ে পড়ে প্রাণ বাঁচান।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে নয়ডার যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটিতে ৩৪ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন। আগুন লাগার সময় অধিকাংশ যাত্রীই ঘুমিয়ে ছিলেন।

আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

জানা গেছে, বাসটি নয়ডা থেকে যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে উত্তরপ্রদেশের মহোবার দিকে যাচ্ছিল। হঠাৎ বাসটিতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তেই আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় আতঙ্কিত হয়ে কয়েকজন যাত্রী বাসের জানালা দিয়ে লাফিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের পাশে বাসটিকে দাউ দাউ করে জ্বলতে দেখা যায়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ও জেওয়ার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ শুরু করে। বর্তমানে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।

আরও পড়ুন: 

ঘটনার খবর পেয়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ পরিস্থিতির খোঁজ নেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। 

পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সব ধরনের সহযোগিতা করার নির্দেশও দেন।

দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী বলেন, ‘আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ কেউ দরজায় ধাক্কা দিলে ঘুম ভেঙে যায়।

তখন দেখি চারদিকে অনেক মানুষ। কোনো জিনিসপত্র নেওয়ার সুযোগ পাইনি, এমনকি জুতাও পরতে পারিনি। শুধু ফোনটি নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করি।’

তিনি বলেন, ‘এত বেশি ভিড় ছিল যে সবাই একে অন্যকে ধাক্কাধাক্কি করছিল। আমাকেও ধাক্কা দেওয়া হচ্ছিল। পরে কেউ একজন আমাকে টেনে বের করে নেয়। 

এরপর আর কিছু মনে নেই। পুরো বাস ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছিল। পরিস্থিতি ভয়াবহ ছিল এবং বের হওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল।’

ওই যাত্রী আরও বলেন, ‘এত ধোঁয়া ছিল যে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। ভেতরে থাকা মানুষগুলো শ্বাস নিতে পারছিলেন না। 

ধাক্কাধাক্কির মধ্যে যারা কোনোভাবে বের হতে পেরেছেন, তারাই বেঁচে গেছেন। অনেক মানুষ মারা গেছেন। আমার পেছনেও বেশ কয়েকজন ছিলেন, যারা হয়তো বের হতে পারেননি। কারণ আমিই অনেক দেরিতে বের হতে পেরেছিলাম।’

-এমএমএস