আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
মার্কিন-ইসরায়েলি ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পাওয়ারাস-এর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার চুক্তি করেছে পাকিস্তান। একই কোম্পানি ভারতের কাছেও ড্রোন-প্রতিরোধী প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। সাবেক ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই ছেলে—ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে পাওয়ারাস-এর প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়।
পরদিন কোম্পানিটি জানায়, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তারা মানববিহীন আকাশযান (ড্রোন) সংক্রান্ত একটি সীমিত ক্রয়াদেশ পেয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকও সই হয়েছে। তবে চুক্তির আর্থিক মূল্য বা ঠিক কোন ধরনের ড্রোন সরবরাহ করা হবে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
আলজারিরা বলছে, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ মাত্র তিন মাস আগে পাওয়ারাস ভারতের একটি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানকে তাদের ড্রোন-ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তি ভারতে উৎপাদন ও বাজারজাতের একচেটিয়া অধিকার দেয়। অর্থাৎ, ভারত ও পাকিস্তান—দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের সঙ্গেই একই মার্কিন কোম্পানির প্রতিরক্ষা ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
পাওয়ারাস ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ফ্লোরিডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটির সহপ্রতিষ্ঠাতা জিভ মারোম ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্য।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ট্রাম্পের ছেলেরা বিনিয়োগ করলেও কোম্পানির পরিচালনা বা আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে কোনো ভূমিকা রাখেন না।
বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন, যে দেশ (পাকিস্তান) ইতিমধ্যেই নিজেদের ড্রোন তৈরি করে এবং চীন ও তুরস্ক থেকে ড্রোন কেনে, তারা কেন এমন একটি কোম্পানির দিকে ঝুঁকবে যেটি মাত্র গত বছর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং যার ইসরায়েলের সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে ও ভারতেও ড্রোন বিক্রি করে।
টরন্টো-ভিত্তিক প্রতিরক্ষা সংবাদ ও বাজার গবেষণা প্ল্যাটফর্ম কুওয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা বিলাল খান আল জাজিরাকে বলেন, ‘পাওয়ারাসের নির্মিত প্রতিটি ড্রোনই পাকিস্তান প্রযুক্তিগতভাবে ইতোমধ্যে তৈরি করে অথবা তৈরি করতে সক্ষম। দীর্ঘমেয়াদে (পাকিস্তানের দৃষ্টিকোণ থেকে) পাওয়ারাসের অবস্থান কোথায় হবে, তা স্পষ্ট নয়।’
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে তুরস্কের বায়রাক্তার টিবি২ ও আকিনচি, চীনের উইং লুং ২ এবং নিজস্ব শাহপার-২ এর মতো ড্রোন ব্যবহার করে। ফলে বিশ্লেষকদের একটি অংশের প্রশ্ন—পাওয়ারাস-এর সঙ্গে নতুন সহযোগিতার মাধ্যমে পাকিস্তান ঠিক কী ধরনের অতিরিক্ত সক্ষমতা অর্জন করতে চায়।
বিষয়টিও পাকিস্তানে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, কারণ ইসলামাবাদ ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না।
অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানি জেনারেল বলেছেন, এক বছরের কম বয়সী, এখনো তালিকাভুক্ত নয় এবং সরবরাহের কোনো রেকর্ড নেই এমন কোনো কোম্পানি সাধারণত কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের জন্য এই যাচাই-বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হতে পারে না।
চুক্তির প্রক্রিয়াটি অস্বাভাবিক ছিল বলে স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাধারণত খুব অপরিণত বলে মনে করা হয়, যদি না সমঝোতা স্মারকটি কোনো ক্রয় সিদ্ধান্ত না হয়ে রাজনৈতিক ইঙ্গিত হয়। এই চুক্তিটি যেভাবে সম্পন্ন হয়েছে, তা সাধারণত পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর তিনটি শাখার ক্রয় প্রধানদের কার্যপদ্ধতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
তবে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাওয়ারাসের সঙ্গে পাকিস্তানের সমঝোতা স্বারক এখনো চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তিতে পরিনত হয়নি। এতে কোনো নির্দিষ্ট ক্রয়ের বাধ্যবাধকতাও তৈরি হয়নি।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএইচআর