Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘে কাশ্মীর নিয়ে ফের সরব এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৫ এএম

জাতিসংঘের মঞ্চে কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে আবারও সরব হলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। পুরনো অবস্থানই ব্যক্ত করলেন তিনি। 

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ সভায় এরদোগান কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করে জানান, আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান করা উচিত!

এরদোগান বলেন, ‘‘দক্ষিণ এশিয়ায়, কাশ্মীর সমস্যা-সহ সকল বিরোধ জাতিসংঘের সনদ এবং প্রাসঙ্গিক প্রস্তাবনা কাঠামোর মধ্যে থেকে আলোচনা করে সমাধান করা গুরুত্বপূর্ণ।’’ তুরস্কের মুখে কাশ্মীর প্রসঙ্গ নিয়ে ভারত এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

তবে এবারই প্রথম নয়, অতীতেও বার বার জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলেছেন এরদোগান। গত বছর সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ সভাতেও কাশ্মীর সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানিয়েছিলেন। 

তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমরা আশা করি, কাশ্মীরের ভাই-বোনেদের কল্যাণের জন্য জাতিসংঘের প্রস্তাবনা মেনে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।’’ 

সেই সময় নয়াদিল্লি তুরস্কের প্রেসিডেন্টের এ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। ভারতের বক্তব্য ছিল, ‘‘কাশ্মীর প্রসঙ্গে আমাদের অবস্থান খুবই স্পষ্ট, আর তার কোনও পরিবর্তন হবে না। এটা দ্বিপাক্ষিক বিষয়। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এই বিষয়ে মধ্যস্থতায় কোনও তৃতীয় পক্ষের প্রয়োজন হবে না।’’

জাতিসংঘের মঞ্চে বার বার কাশ্মীর প্রসঙ্গ তোলেন এরদোগান। ২০২৩, ২০২২ এবং ২০২০ সালেও জাতিসংঘে কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলেছিলেন এরদোগান। অতীতে তাকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘স্বাধীনতার ৭৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ভারত এবং পাকিস্তান এখনও পর্যন্ত শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। এটা দুর্ভাগ্যজনক। 

আশা করছি, কাশ্মীরে চিরস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে দুই দেশ।” শুধু আন্তর্জাতিক মঞ্চে নয়, এরদোগান বার বার পাকিস্তান সফরে এসেও কাশ্মীর নিয়ে সরব হয়েছেন। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে পাক সফরে গিয়েও কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের জন্য আলোচনার বার্তা দেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তবে তার এই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানায় ভারত।

ভারত বরাবর আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মীরকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে উল্লেখ করে এসেছে। এ নিয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা অনভিপ্রেত বলেও বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে এসেছে নয়াদিল্লি। তবে এরদোগান যে কাশ্মীর প্রসঙ্গে অনড়, তা আবার ব্যক্ত করলেন জাতিসংঘের মঞ্চে।

তুরস্ক বরাবর পাকিস্তানের সমর্থনে মুখ খুলেছে। গত কয়েক বছর ধরে ভারতের বিরুদ্ধে অক্ষশক্তি হিসাবে পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে তুরস্ক। সেই শক্তিতে মাঝেমধ্যে যোগ দেয় আজারবাইজানের মতো দেশও। 

গত বছর মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং তাকে কেন্দ্র করে চলা চার দিনের সংঘর্ষের সময়ও পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল তুরস্ক। 

সংঘাতের সময় পাকিস্তানকে সরাসরি সমর্থন ও সামরিক সহযোগিতা করেছিল তারা। সেসময় ঢালাও ড্রোন এবং রকেট সরবরাহ করেছিল ইসলামাবাদকে। অ্যাসিসগার্ড সোঙ্গার এবং বাইরাকতার-টিবি২ ড্রোন ভারতের ওপর নজরদারি এবং হামলায় ঢালাও ব্যবহার করেছিল পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।

-এমএমএস