Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

থাইল্যান্ড ভেঙে নতুন মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম

থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের সংঘাত আবারও আলোচনায় এসেছে। দেশটির মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ তিন প্রদেশ—পাত্তানি, ইয়ালা ও নারাথিওয়াত নিয়ে আলাদা করে একটি স্বাধীন ইসলামিক দেশ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সেখানকার প্রধান সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনাল’ (বিআরএন)। 

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দলটির মুখপাত্র নিকামাতুল্লাহ সেরি এই হুঁশিয়ারি দেন।

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে বিআরএন-এর মুখপাত্র বলেন, ‘যতদিন না আমা লক্ষ্য (আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন) অর্জিত হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত তারা লড়াই থামাবেন না। প্রয়োজনে এই সংগ্রাম কেয়ামত পর্যন্ত চলবে।’

বিআরএন মুখপাত্র নিকামাতুল্লাহ সেরি
বিআরএন মুখপাত্র নিকামাতুল্লাহ সেরি

থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলটি ঐতিহাসিকভাবে মালয় মুসলিম অধ্যুষিত। দক্ষিণাঞ্চলটি একসময় পূর্বতন মালয়-মুসলিম পাতানি সালতানাতের অংশ ছিল, কিন্তু ১৯০০-এর দশকের গোড়ার দিকে বৌদ্ধ-সংখ্যাগরিষ্ঠ থাইল্যান্ড (তৎকালীন সিয়াম) এটি দখল করে নেয়।

পরে ১৯৬০ এর দশক থেকে স্থানীয় মালয় মুসলিম জনগোষ্ঠীর একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক অধিকারের বিষয়ে অধিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে ২০০৪ সাল থেকে এই লড়াই নতুন করে মারাত্মক আকার ধারণ করে এবং সম্প্রতি সেখানে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

পর্যবেক্ষক সংস্থা ডিপ সাউথ ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে গত দুই দশকে সহিংসতায় জঙ্গি, থাই নিরাপত্তা বাহিনী ও বেসামরিক নাগরিকসহ ৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় থাইল্যান্ড সরকার ২০১৩ সাল থেকে মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় বিআরএন-এর সাথে আলোচনা করে আসছে, যার সর্বশেষ উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনা ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

কিন্তু প্রক্রিয়াটি বারবার থমকে গেছে এবং জুলাই মাসে এক হামলায় পাঁচজন সৈন্য নিহত হওয়ার পর আলোচনা স্থগিত করে থাই সরকার।

এদিকে সাম্প্রতিক সহিংসতা বৃদ্ধির ঘটনায় বিআরএন-এর দায় স্বীকার বা অস্বীকার করেননি নিকমাতুল্লাহ। 

তিনি জানান, বিআরএন ওই অঞ্চলে ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি প্রস্তাব দিয়েছে এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সংগঠনটি নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতা গ্রহণ করবে।

নিকমাতুল্লাহ বলেন, তারা প্রথমে ৫ থেকে ১০ বছর অঞ্চলটি শাসন করতে চায়। এই সময়ে সেখানে শরিয়াহ পুলিশ এবং ইসলামী আইন অনুসরণকারী আদালত থাকবে, যা শুধুমাত্র মুসলিমদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এরপর গণতান্ত্রিকভাবে জনগণ তাদের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা বেছে নেবে।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়া থাইল্যান্ড সরকার ও দক্ষিণাঞ্চলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। সীমান্তবর্তী হওয়ায় দক্ষিণ থাইল্যান্ডের নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রভাব মালয়েশিয়ার উত্তরাঞ্চলেও পড়ে। ফলে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে কুয়ালালামপুরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক আলোচনায় বিআরএন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত সামনে এনেছে। এর মধ্যে রয়েছে মালয় পরিচয় ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মর্যাদা স্বীকৃতি, সংঘাত-সংশ্লিষ্ট বন্দিদের মুক্তি এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় বিশেষ অর্থনৈতিক করিডর (এসইসি) প্রকল্প বন্ধের দাবি। সংগঠনটির মতে, এসব বিষয় সমাধানের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তবে থাইল্যান্ড সরকার বলছে, রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সংঘাতের সমাধান করা যেতে পারে; কিন্তু দেশের সার্বভৌমত্ব ও সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। 

সূত্র: ফ্রান্স২৪, মালয় মেইল

এমএইচআর