আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
টাইফুন ‘দুজুয়ান’-এর প্রভাবে জাপানের পূর্বাঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর ফলে সৃষ্ট ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এই ঝড়ের কারণে জাপান আবহাওয়া সংস্থা সোমবার ওশিমা-সহ ইজু দ্বীপপুঞ্জের কিছু অংশের জন্য ভূমিধস-সংক্রান্ত সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা জারি করেছিল।
চিবা ও কানাগাওয়া প্রিফেকচারে—যেখানে একাধিক ভূমিধসের ঘটনায় বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—সেখানে পুলিশ, দমকলকর্মী এবং আত্মরক্ষা বাহিনী উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। খবর জাপান টাইমস ও আনাদোলুর।

কানাগাওয়া প্রিফেকচারের ইয়োকোসুকা শহরে নিজ বাড়ির ভেতর থেকে ৬৪ বছর বয়সী এক নারীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ভূমিধসের ফলে সৃষ্ট কাদা ও ধ্বংসস্তূপ ওই দোতলা ভবনের নিচতলায় ঢুকে পড়েছিল।
এখান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে আরেকটি ভূমিধসের ঘটনায় ৭০-এর কোঠায় থাকা এক দম্পতি নিখোঁজ হয়েছেন।
কাছাকাছি মিউরা শহরেও আরও দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। সেখানে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের নিচতলায় কাদা ও ধ্বংসস্তূপ ঢুকে পড়লে ২০ বছরের এক তরুণী নিখোঁজ হন। এছাড়া শহরের অন্য একটি এলাকায় ভূমিধসে নিজের বাসস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আরেক নারী নিখোঁজ হয়েছেন।
মঙ্গলবার জাপানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, টাইফুন দুজুয়ানের প্রভাবে জাপানের বিভিন্ন এলাকায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত এবং ছয়জন নিখোঁজ হয়েছেন।
সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের তথ্যমতে, এই ঝড়ের ফলে কান্তো অঞ্চল এবং টোকিওর দূরবর্তী দ্বীপগুলোতে রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা বন্যা ও ভূমিধসের সূত্রপাত ঘটিয়েছে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা ভূমিধসের বিষয়ে 'লেভেল ৫' সতর্কতা জারি করেছে—যা দেশটির সর্বোচ্চ সতর্কতার স্তর—এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

যদিও টাইফুনটি জাপান থেকে দূরে সরে যাচ্ছিল, তবুও টোকিওর নিকটবর্তী চিবা প্রিফেকচারের কিছু অংশে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত ছিল।
টোকিওর নাকামেগুরো এলাকায় টাইফুন দুজুয়ানের প্রভাবে ভারী বৃষ্টির পর একটি প্রতিরোধক দেয়াল ধসে পড়ে। ভূমিধসে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া ছয়জনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
-এমএমএস