আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২০ পিএম
হোয়াইট হাউসে তিনটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ২৪ ঘণ্টা ভিডিও সম্প্রচার করতে নিজস্ব চ্যানেল চালু করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। চ্যানেলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্রাম্প টিভি’।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় অনুযায়ী চ্যানেলটির সম্প্রচার শুরু হয়। মূলত হোয়াইট হাউসের ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে ‘ট্রাম্প টিভি: দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’ নামে এটি পরিচালনা করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, চ্যানেলটিতে প্রশাসনের বিভিন্ন ঘোষণা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং অতীতের নির্বাচিত ভিডিও ২৪ ঘণ্টা সম্প্রচার করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৈরি ও বাছাই করা ভিডিওর মাধ্যমে সরকারি কর্মকাণ্ড সরাসরি দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।
এর কয়েক দিন আগে ট্রাম্প সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাওয়ের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেন। এসব সংবাদমাধ্যম তার প্রশাসন নিয়ে ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শনিবার ওই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে গেলে বাধা দেন নিরাপত্তাকর্মীরা। সেই সময় সিএনএনের প্রতিবেদক বেটসি ক্লেইনের পরিচয়পত্রও জব্দ করা হয়।
নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউসের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাও। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের বিধিনিষেধ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সুরক্ষার পরিপন্থি।
এর মধ্যে সোমবার হোয়াইট হাউসের যৌথ টেলিভিশন সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা পাঁচটি বড় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান— এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, ফক্স নিউজ ও এনবিসি যৌথভাবে সংবাদ সংগ্রহ বন্ধ রাখে। হোয়াইট হাউস সিএনএনকে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে না দেওয়ার পর অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও সিএনএনের পরিবর্তে বিকল্প কোনো সংবাদদল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়।
হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ট্রাম্প টিভি’তে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, প্রশাসনের ঘোষণা, সংবাদ সম্মেলন এবং অতীতের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নির্বাচিত অংশ দেখানো হবে।
তবে এই চ্যানেল স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের বিকল্প নয়। এর ভিডিও প্রশাসনের পক্ষ থেকেই তৈরি ও বাছাই করা হচ্ছে। ফলে এতে স্বাধীন সাংবাদিকদের অনুসন্ধান, প্রশ্ন, তথ্য যাচাই ও সম্পাদনার সুযোগ নেই।
হোয়াইট হাউস ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে চলমান বিরোধের মধ্যেই নতুন এই চ্যানেল চালু হলো। তিন সংবাদমাধ্যমের করা মামলার মাধ্যমে এখন হোয়াইট হাউসের সংবাদকর্মীদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আইনি বিতর্ক আরও জোরালো হলো।
সূত্র: গালফ নিউজ
এফএ