Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ৩ মার্কিন সংবাদমাধ্যমের মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় তিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউ।

হোয়াইট হাউসের ভেতরে প্রবেশে সাংবাদিকদের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর এই মামলা করা হলো। একইসঙ্গে বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ট্রাম্পের টেলিভিশন ‘পুল’ কভারেজ স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। খবর আল-জাজিরার।

স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে সংবাদমাধ্যম তিনটি জানায়, তারা সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আজ সকালে আমরা সরকারকে জানিয়েছি যে, আমাদের প্রথম সংশোধনী অধিকার রক্ষা এবং এই নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা আজ মামলা করেছি যে, সংবাদমাধ্যম কী প্রতিবেদন করবে বা প্রকাশ করবে, তা সরকার নির্ধারণ করতে পারে না।

পরে সোমবার ওয়াশিংটন ডিসির একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। সংবাদমাধ্যমগুলো যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, হোয়াইট হাউস তাদের সাংবাদিকদের অনুমতিপত্র বা প্রেস ক্রেডেনশিয়াল ‘কোনো নোটিশ বা প্রক্রিয়া ছাড়াই’ বাতিল করেছে। কারণ, প্রশাসন তাদের সংবাদ প্রকাশে আপত্তি জানিয়েছিল। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এটি যদি চ্যালেঞ্জ ছাড়া থেকে যায়, তাহলে তা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারের হস্তক্ষেপমুক্ত স্বাধীন সাংবাদিকতার বিষয়ে জনগণের অধিকারের ক্ষেত্রে হুমকি তৈরি করবে।

এর আগে, শনিবার তিনটি সংবাদমাধ্যমই জানিয়েছিল, তাদের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের প্রাঙ্গণে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং তাদের প্রেস ক্রেডেনশিয়ালও জব্দ করা হয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে তারা জানায়, এ বিষয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া জেলার ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা করবে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই মামলাটি নিয়ে জরুরি শুনানি হতে পারে বলেও তারা জানিয়েছিল।

সোমবারই যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশন সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, ফক্স ও এনবিসি এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, তারা ট্রাম্পের টেলিভিশন ‘পুল’ কভারেজ স্থগিত করেছে। কোনো কোনো অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্টের ছবি ধারণের দায়িত্ব এসব টেলিভিশন সম্প্রচারমাধ্যম পালাক্রমে পালন করে থাকে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার সম্পর্কে সঠিক ও স্বাধীন তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে জনগণের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রয়েছে। কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি থাকার কারণে কোনো প্রশাসনেরই সেই সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রম সীমিত করা উচিত নয়।

অন্যদিকে, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, এটি বাকস্বাধীনতার ওপর আক্রমণ নয়। কারণ, যেসব সংবাদমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তারা এখনও ট্রাম্পকে নিয়ে প্রতিবেদন করতে পারে, সরকারি প্রকাশিত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারে।

ভ্যান্স বলেন, প্রেসিডেন্ট যা বলেছেন তা হলো, ‘আমরা আপনাদের হোয়াইট হাউসের ভেতরে বিশেষ প্রবেশাধিকার দেব না’।’ তিনি দাবি করেন, এই পদক্ষেপ ‘প্রচার’ বা ‘প্রোপাগান্ডার’ বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে; প্রেসিডেন্ট ও প্রশাসন নিয়ে ওই সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রায় ৯২ শতাংশই নেতিবাচক। যা আমেরিকান জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। এটি জনমতের প্রতিনিধিত্বও করে না। তাই আপনি যদি কার্যত অতি-বামপন্থী প্রচারে যুক্ত থাকেন, তাহলে রিপাবলিকান হোয়াইট হাউস কেন আপনাকে বিশেষ প্রবেশাধিকার দেবে?

মামলার বিষয়ে নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক বিবৃতিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ট্রাম্প। তার মতে, তিনি ‘ফেক নিউজের লোকজন’কে আক্রমণ করে থাকেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘ওভাল অফিস...শালীনতা, সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে আচরণ করা উচিত, তৃতীয় শ্রেণির ভাঁড়দের দ্বারা অপবিত্র করা নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার অর্জন যতই মহান হোক, তারা সেগুলোকে তুচ্ছ ও হেয় করে।’

শুক্রবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি ওই সংবাদমাধ্যমগুলোকে প্রেসিডেন্টের বাসভবন থেকে নিষিদ্ধ করছেন। তিনি এটিকে ‘ফেক নিউজ’ বিতরণের শাস্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে কী কারণে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, সেই বিষয়ে তিনি তখন বিস্তারিত জানাননি। সোমবার ট্রাম্প বলেন, এই পদক্ষেপ মুক্ত ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপর আক্রমণ নয়।

ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমি মুক্ত সংবাদমাধ্যম ভালোবাসি।’ তবে তার ভাষায়, এটি ‘ফেক নিউজের বিরুদ্ধে আক্রমণ, যা আমাদের প্রিয় যুক্তরাষ্ট্রে ক্যানসারের মতো বেড়ে উঠেছে।’

এফএ