আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১০ পিএম
ইরানের বাণিজ্যিক বিমান সংস্থার চলাচল অচল করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে আগামী বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকে বিশ্বজুড়ে দেশটির ২৭টি বাণিজ্যিক এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ও সেবা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট বলেন, ‘২৩ সেপ্টেম্বর থেকে সব ইরানি এয়ারলাইন বিশ্বজুড়ে বন্ধ হয়ে যাবে’।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্বের কোনো দেশ নিজেদের বিমানবন্দরে ইরানি বিমান অবতরণের অনুমতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং টিকিট বিক্রির সুবিধা দিলে সংশ্লিষ্ট দেশ ও প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন ডলারভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে।
এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের বেসামরিক বিমান খাত সংশ্লিষ্ট ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। এর মধ্যে ইরানের ২৭টি এয়ারলাইন্স এবং দেশটির বিমান চলাচল খাতকে সহায়তা করা ইরানের বাইরের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও ছিল।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, ইরান তাদের বেসামরিক বিমান খাতকে অবৈধ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা কিছু প্রতিষ্ঠানকে বিমান ও সংবেদনশীল প্রযুক্তি সংগ্রহে সহায়তার অভিযোগও করেছে ওয়াশিংটন।
প্রসঙ্গত, ইরানের বিমান খাত বহু বছর ধরেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সংকটে রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে নতুন বিমান কেনা, যন্ত্রাংশ সংগ্রহ এবং রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনায় দেশটির এয়ারলাইনগুলো নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ে। এবার নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক রুটে ইরানি বিমান চলাচল আরও সীমিত হওয়ার ঝুঁকিতে পরেছে।
এদিকে ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য শুধু ইরানি এয়ারলাইন্স নয়; বরং এসব বিমানকে বিদেশে পরিচালনায় সহায়তা করা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও চাপের মধ্যে রাখা। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে বিমানবন্দর, জ্বালানি সরবরাহকারী, গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠান এবং টিকিট বিক্রির সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলোকে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন ঝুঁকি বিবেচনা করতে হবে।
ইতিমধ্যেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভয়ে তুরস্কসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইরানের মাহান এয়ারের ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, এমন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণা এলো যখন, জাতি সংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্র সফর করতে যাচ্ছেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
যুত্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ইরান কী ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি
এমএইচআর