আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
প্রায় দেড় বছর ধরে টানাপোড়েনের পর অবশেষে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড।
নতুন এই চুক্তির শর্ত অনুসারে, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক ঘাঁটি ও উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিপক্ষকে সেই দ্বীপে ঘাঁটি করতে দেওয়া হবে না। খবর রয়টার্সের।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে আমার নির্দেশনায় মার্কিন প্রতিনিধিরা ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে।
এতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, গ্রিনল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডে যা যা কিছু করা প্রয়োজন, সেসব করার পূর্ণ এখতিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের চিরকাল থাকবে।
বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড ইউরোপের দেশ ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। এ দ্বীপের আয়তন ২১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা মাত্র ৫৬ হাজার ৫৮৩ জন।
এই জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশই ইনুইট জাতিগোষ্ঠীভুক্ত। গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান উত্তর আমেরিকা অঞ্চলে হলেও এই দ্বীপটি ডেনমার্কের অধীন একটি স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রদেশ।
গ্রিনল্যান্ডের জনসংখ্যা মাত্র প্রায় ৫৭ হাজার এবং তারা ডেনমার্ক এবং ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নাগরিক।
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণের পর থেকে গ্রিনল্যান্ড দখলের কথা বলে আসছিলেন ট্রাম্প এবং গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক বরাবরই তাতে তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছিল।
ব্রিটিশ সংবাদসংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সেই টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি নির্মাণ ও সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে শুক্রবার চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের মধ্যে।
ট্রাম্পের ঘোষণা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, আলোচনার ফলাফলে তিনি সন্তুষ্ট এবং অন্তত অদূর ভবিষ্যতে তিনি হয়তো দ্বীপটিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে আর দাবি করবেন না।
ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে বিস্তারিত কিছু না বলেই তিনি জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র শীঘ্রই দ্বীপটিতে বড় আকারের সামরিক উপস্থিতি গড়ে তুলতে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, দ্বীপটির দুর্গম উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ইতোমধ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাকাশ বিভাগ বা স্পেস ফোর্সের একটি ঘাঁটি রয়েছে।
ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে এ প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বহুদিনের একটি স্বপ্ন অবশেষে পূর্ণ হলো।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডরিকসেনের দফতর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন এই চুক্তি উত্তর আটলান্টিক এবং আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তাকে জোরদার করবে।
পৃথক এক বিবৃতিতে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জ্যঁ ফ্রেডরিক নিলসেন বলেছেন, নতুন এই চুক্তি নিউজিল্যান্ডের স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক সম্পর্কে এই আর্কটিক দ্বীপের অংশগ্রহণকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটা আমাদের সবার জন্য লাভজনক।
-এমএমএস