আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
ইয়েমেনে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরব ২৬টি বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে হুথি গোষ্ঠী। বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে হুথি নেতাদের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
হুথিদের দাবি, ইয়েমেনে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার মধ্যে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন এলাকায় সৌদি বাহিনীর বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে শুক্রবার হুথিরা জানিয়েছিল, গত এক সপ্তাহে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি হামলার সংখ্যা ৩০০-তে পৌঁছেছে।
এদিকে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, শুক্রবার তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়াহ জেলায় সংঘর্ষে তাদের বাহিনীর হাতে ৩০ জন হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে সরকার। চলতি সপ্তাহে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া এলাকাগুলোর মধ্যে আল-ওয়াজিয়াহ অন্যতম।
সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে লড়াই বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি রাজধানী সানাতেও শুক্রবার বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা ইরান-সমর্থিত হুথিদের প্রতি সমর্থন জানান এবং সৌদি আরবের বিরোধিতা করেন।
হুথিরা এদিকে ইয়েমেনের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলও রয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইয়েমেন সরকার ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর অন্তত পাঁচজন নিহত হন। তাদের মধ্যে তিনজন শিশু ছিল বলে বিভিন্ন পক্ষের প্রতিবেদনে জানানো হয়।
সৌদি আরবের দাবি, হুথিদের একটি ড্রোন ভূপাতিত করার পর তাইফ গভর্নরেটে একজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে হুথি-সমর্থিত গণমাধ্যমের দাবি, তাইজ ও আবস শহরে সৌদি বিমান হামলায় কয়েকজন নিহত হয়েছেন।
সংঘাতের বিস্তৃতির প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলেও। বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।
গত সপ্তাহান্তে ওমানের রাজধানী মাসকাটে মার্কিন কর্মকর্তারা হুথি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন বলে প্রতিবেদনে জানা গেছে। বৈঠকে হুথিরা ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করেছে যে সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়—এমন কোনো জাহাজকে তারা লক্ষ্যবস্তু করবে না।
সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানালেও ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত তাতে সাড়া দেয়নি। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন করে আরেকটি সামরিক ফ্রন্টে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইয়েমেন ও আশপাশের অঞ্চলে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় লোহিত সাগরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌ মিশন ‘অপারেশন অ্যাসপাইডস’ সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলা গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
কালাস আরও জানান, ইয়েমেনে সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার নিয়ে তিনি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
/এএস