Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানের মসজিদে বোমা হামলায় নিহত বেড়ে ২৭, আহত ৮০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখাওয়ার কোহাত জেলায় পুলিশ লাইন্সের একটি মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে দাড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৮০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

শুক্রবার ( ১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের সময় বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলাকারী মসজিদের প্রধান ফটকে আঘাত করে এবং বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মসজিদের বাইরের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি দেয়াল ধসে পড়েছে। 

পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি দিয়ে হামলা চালানোর পর সশস্ত্র হামলাকারীরা পুলিশ কমপ্লেক্সে ঢোকার চেষ্টা করে। এরপর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের গুলিবিনিময় হয়।

pakistan

প্রাদেশিক পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি) জুলফিকার হামিদ জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ৬ জন বেসামরিক সাধারণ নাগরিক এবং ১৫ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এছাড়াও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ছয় হামলাকারী নিহত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অন্তত একজন হামলাকারী এখনো পুলিশ কম্পাউন্ডের ভেতরে লুকিয়ে ছিল এবং তাকে নির্মূল করার অভিযান চলছে। 

এদিকে জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নাসির হাসান আফ্রিদি হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ৮০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর।

অন্যদিকে নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর একটি অংশ এবং জঙ্গি সংগঠনগুলোর জোট ‘ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন’ এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

২০২৫ সালের এপ্রিলে উগ্রপন্থী ও সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন হাফিজ গুল বাহাদুর গ্রুপ, লশকর-ই-ইসলাম এবং হরকত ইনকিলাব-ই-ইসলামি মিলে এই ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন জোট গঠন করে। এরপর থেকেই উত্তর ওয়াজিরিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একের পর এক আত্মঘাতী গাড়ি বোমা ও কোয়াডকপ্টার হামলা চালিয়ে আসছে গোষ্ঠীটি।

সূত্র: আলজাজিরা, ডন

এমএইচআর