আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন ও সুদানে যুদ্ধ চলছে। একই সঙ্গে দ্রুত অগ্রসরমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আয়োজন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দিতে মঙ্গলবার থেকে নিউইয়র্কে জড়ো হবেন বিশ্বনেতারা।
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ এবং এর বৈশ্বিক প্রভাব এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চ-পর্যায়ের অধিবেশন বা ‘হাই-লেভেল উইক’-এ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মিত্রদের প্রতি তার দেশের প্রতিরক্ষা প্রয়োজনের দিকে নজর ধরে রাখার আহ্বান জানাবেন। রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় দূরপাল্লার ড্রোন হামলার পর মস্কো পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।
অধিবেশন শুরুর আগে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘আমরা যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দেখি, তখন প্রতিদিনই পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘কোথাও কোনো উন্নতি নেই। আর যখন পরিস্থিতি প্রতিদিন আরও খারাপের দিকে যায়, তখন আমরা বড় ধরণের বিস্ফোরণের গুরুতর ঝুঁকিতে থাকি।’
আলোচনা ও বিভিন্ন ভাষণেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে। এআইয়ের সম্ভাব্য হুমকি মানবতার জন্য কী হতে পারে, তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতের নেতারা সতর্ক করার পর বিষয়টি বিশ্বজুড়ে শিরোনাম হয়েছে।
এ নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরি বৈঠকও হওয়ার কথা রয়েছে।
এআই সেফটি কানেক্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও এআই শাসনব্যবস্থা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ নিকোলাস মিয়াইয়ে বলেন, ‘এ বছরের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এমন একটি পরিকল্পনার সূচনা করতে পারে, যার মাধ্যমে এআই নিরাপত্তা নিয়ে শিল্প খাতের প্রতিশ্রুতি থেকে বিশ্ব কী চায় এবং তা পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব কার, তা নির্ধারণ করা যাবে।’
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে কঠিন হবে ওই পরিকল্পনা কেমন হবে, তা নিয়ে একমত হওয়া এবং সেটিকে বাস্তবে রূপ দেওয়া।’
এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যেই গুতেরেস আরও বৈশ্বিক সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এআই নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তলানিতে নামার প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য বিশ্বের নেই।’
নেপথ্যে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ নিয়েও দর-কষাকষি করবে। বিভাজনে জর্জরিত এবং বড় ধরণের বাজেট ঘাটতিতে থাকা এই সংস্থার পরবর্তী নেতৃত্বে কাকে আনা হবে, তা নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা হবে।
এ বিষয়ে বড় কোনো অগ্রগতি প্রত্যাশিত নয়। তবে প্রক্রিয়াটিতে ভেটো ক্ষমতা থাকা ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র এই সমাবেশকে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর কাজে ব্যবহার করতে পারে।
এদিকে বিশ্বব্যাপী সংঘাত বেড়ে যাওয়া, করোনাভাইরাস মহামারি, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য ও ব্যাপক মেরুকরণের মধ্য দিয়ে গুতেরেসের দ্বিতীয় পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে।
এমএইচআর