আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে নতুন করে কৃচ্ছ্রসাধনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশটির সব শপিংমল, বাজার ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাত ৯টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিয়েসহ বিভিন্ন সামজিক অনুষ্ঠান রাত ১০টার পর আয়োজনেও বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দেশটির মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি সংরক্ষণ এবং বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে সরকার এসব পদক্ষেপ পুনরায় কার্যকর করেছে। নতুন নির্দেশনার আওতায় দেশজুড়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মার্কেটের কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।
নতুন নির্দেশনায় বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়েও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। রাত ১০টার পর কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন বা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি থাকবে না। ফলে বিয়ের অনুষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট আয়োজনগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করতে হবে। এছাড়াও, বিবাহ সংক্রান্ত সকল অনুষ্ঠান বা আয়োজনে কেবল একটি পদ পরিবেশন করতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য এ ধরনের পদক্ষেপ নতুন নয়। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, আমদানি ব্যয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপ মোকাবিলা করছে- বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ শুরু পর পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।
শেহবাজ শরিফের সরকারের দাবি, বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সময় কমিয়ে এবং রাতের বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত করে জ্বালানি আমদানির ওপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার সময় জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমানোও এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
এদিকে বাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত বন্ধের সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বড় শহরগুলোর বাজারগুলোতে সন্ধ্যার পরই ক্রেতাদের ভিড় বাড়ে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবসা গুটিয়ে নিলে অর্থনৈতিকভাবে ব্যপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগে গত এপ্রিল মাসেরও পাকিস্তান সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন, বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধ রাখাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিল। এবার নতুন করে এসব কৃচ্ছ্রসাধনমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করার মধ্য দিয়ে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত মিলছে।
সূত্র: ডন, এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
এমএইচআর