আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে প্রবেশের ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিকে বলেছে, ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও)-এর সদস্য এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়া হবে না। তবে আব্বাসের নাম উল্লেখ করেনি ওয়াশিংটন।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র এএফপিকে নিশ্চিত করেছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট আব্বাসও এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতির বিপরীতে সংস্কার করতে ব্যর্থ হওয়া এবং শান্তির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে চলমান কর্মকাণ্ডের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত বছরও ট্রাম্প প্রশাসন একই পদক্ষেপ নিয়েছিল। এর ফলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নিয়মিত অংশগ্রহণকারী ফিলিস্তিনি নেতা ভিডিও কলের মাধ্যমে বিশ্বনেতাদের এই সম্মেলনে ভাষণ দিতে বাধ্য হন।
বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ‘পিএলও এবং পিএ আবারও তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া ও সমর্থন করা, যা তাদের আগের দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে ক্ষুণ্ন ও বিরোধিতা করে’।
ওয়াশিংটন আরও অভিযোগ করেছে, পিএলও এবং পিএ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মাধ্যমে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা একতরফা স্বীকৃতি আদায়ের মাধ্যমে আলোচনা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি, সন্ত্রাসীদের ভাতা দেওয়া এবং প্রকাশ্য বিবৃতি ও স্কুলের পাঠ্যবইয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও সন্ত্রাসীদের প্রশংসা অব্যাহত রেখেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিরোধিতা করে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলছে, ভিসা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত দুই পক্ষের সম্পর্ক উন্নয়ন এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এ পদক্ষেপের ফলে ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর জাতিসংঘে ফ্রান্স ও সৌদি আরবের যৌথ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানবিষয়ক সম্মেলনের পর জাতিসংঘের মোট ১৪২টি সদস্যরাষ্ট্র ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির পক্ষে সমর্থন জানায়।
প্রসঙ্গত, ১৯৪৭ সালের জাতিসংঘ সদর দপ্তর-সংক্রান্ত চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত জাতিসংঘের কাজে অংশ নিতে আসা বিদেশি প্রতিনিধিদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতায় রয়েছে। তবে নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি ও চরমপন্থা-সংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের ক্ষমতার কথা বলে আসছে ওয়াশিংটন।
এদিকে এবারও আব্বাস সরাসরি নিউইয়র্কে যেতে না পারলে তাকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।
এমএইচআর