আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
আরব সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারত ও পাকিস্তানের নৌবাহিনীর দুটি জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) উত্তর আরব সাগরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, সংঘর্ষের সময় ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ নিয়মিত নজরদারি মিশনে ছিল। এ সময় একটি পাকিস্তানি নৌযান দ্রুতগতিতে ভারতীয় জাহাজটির কাছে চলে আসে এবং অনিরাপদভাবে চলাচল ও কৌশল পরিবর্তন করার একপর্যায়ে সংঘর্ষ ঘটে।
এ ঘটনাকে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর ‘অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার আচরণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে মন্ত্রণালয়।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটেছে এবং এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে সংঘর্ষে জড়িত দু্ই জাহাজের নাম প্রকাশ করেনি ভারত।
এদিকে এ ঘটনায় বুধবার নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় কূটনীতিককেও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বিষয়টি উত্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, পাকিস্তানি নৌযানের আচরণ ১৯৯১ সালের ভারত-পাকিস্তান চুক্তির একটি ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ওই চুক্তিতে দুই দেশের সামরিক মহড়া, কৌশলগত চলাচল ও সেনা স্থানান্তর সম্পর্কে আগাম নোটিশ এবং সামরিক ইউনিটগুলোর মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার বিষয় রয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে দুই দেশের সামরিক ইউনিটগুলোকে সংশ্লিষ্ট চুক্তির বিধান মেনে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হবে। দিল্লি পাকিস্তানকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
প্রসঙ্গত, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা রয়েছে। এর মধ্যে আরব সাগরে দুই দেশের নৌবাহিনীর ইউনিটের সরাসরি সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি, রয়টার্স
এমএইচআর