Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

ইন্দোনেশিয়ায় যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে নিহত ৬, নিখোঁজ ১৩০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৬ এএম

ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে যাত্রীবাহী একটি ফেরি উল্টে গিয়ে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর এ পর্যন্ত ১০৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৩০ জন।

স্থানীয় সময় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামের ফেরিটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফেরিটি পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ কালিমানতান প্রদেশের বানজারমাসিন শহরের দিকে যাচ্ছিল।

স্থানীয় সময় রোববার রাত ২টার দিকে বানজারমাসিন থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে ফেরিটির সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করা হয়। খবর বিবিসির।

দুর্ঘটনাস্থলে বেশ কয়েকটি জাহাজ ও একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে প্রায় ২৮০ জন সদস্য অংশ নিয়েছেন। জাভা সাগরে চলাচলকারী সব জাহাজকে সতর্ক করা হয়েছে এবং কোনো যাত্রী বা ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পেলে তা জানাতে বলা হয়েছে।

৩৯০ ফুট বা ১১৯ মিটার দীর্ঘ ফেরিটিতে ২১৩ জন যাত্রী ও ৩০ জন ক্রু সদস্য ছিলেন।

সামুদ্রিক চলাচল পর্যবেক্ষণকারী দুটি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩৩ মিনিটে সুরাবায়া থেকে যাত্রা শুরু করে ফেরিটি। রোববার দুপুর ২টায় বানজারমাসিনে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ভোর ৪টা ১০ মিনিটে ফেরিটির বিপদসংকেত পাওয়ার কথা জানিয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা, নৌবাহিনী, সামুদ্রিক পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।

বানজারমাসিনের বাসিন্দা রুসমিলাওয়াতি তার আট স্বজনের খোঁজ নিতে বন্দরে ছুটে যান। তারা জাভায় কয়েকজন ইসলামি ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের মাজার জিয়ারত শেষে বানজারমাসিনে ফিরছিলেন।

বিবিসি ইন্দোনেশিয়াকে তিনি বলেন, যাওয়ার সময় স্বজনেরা বিমানে গিয়েছিলেন। তবে ফেরার সময় জাহাজে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিতে চেয়েছিলেন তারা।

Ferry
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা (বাসারনাস) প্রকাশিত ভিডিও থেকে নেওয়া এই আকাশচিত্রে দেখা যাচ্ছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাভা সাগরে যাত্রীবাহী ফেরি উল্টে যাওয়ার পর সেটির তলা পানির ওপরে ভেসে আছে / ছবি: এপি

রোববার বিকেল পর্যন্ত স্বজনদের কেউ উদ্ধার হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাননি রুসমিলাওয়াতি।

দুর্ঘটনার আগে পরিবারের সদস্যরা তাদের একজনের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে একটি বার্তা দেখতে পেয়েছিলেন। সেখানে লেখা ছিল, আজ রাতে ঢেউগুলো সত্যিই ভয়ংকর। নাকি জাহাজে ভ্রমণের সময় সাধারণত এমনই হয়— ঢেউয়ের সঙ্গে দুলতে ও ধাক্কা খেতে হয়?

স্বজনদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করে রুসমিলাওয়াতি বলেন, আশা করি তারা নিরাপদে আছে।

এদিকে সুরাবায়ার তানজুং পেরাক বন্দরে ফেরিটির ক্রু সদস্যদের স্বজনরাও প্রিয়জনদের খোঁজে ভিড় করেছেন।

ফ্রেডি নামের এক ব্যক্তি জানান, তার ছোট ভাই স্টিভি মানুহুয়া ওই ফেরিতে কিবোর্ড বাদক হিসেবে কাজ করতেন। যাত্রীদের বিনোদনের জন্য তিনি গান-বাজনা করতেন।

ফ্রেডি বলেন, সুরাবায়ায় জাহাজটি নোঙর করার সময় দুই দিন আগে তার সঙ্গে কথা হয়েছিল। এরপর এখন পর্যন্ত আর কোনো খবর পাইনি।

ভাইয়ের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কেও তিনি কোনো তথ্য পাননি বলে জানান।

Waiting
বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাভা সাগরে ফেরি উল্টে যাওয়ার পর দক্ষিণ কালিমান্তানের বানজারমাসিনে উদ্ধারকারী দলের কমান্ড সেন্টারে যাত্রী তালিকায় স্বজনদের নাম খুঁজছেন স্বজনরা / ছবি: এপি

১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে যাতায়াতে ফেরি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থা। তবে দেশটিতে নৌযান দুর্ঘটনাও নিয়মিত ঘটে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ায় ১১১টি ফেরি দুর্ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

গত জুলাইয়ে দক্ষিণ সুলাওয়েসির সেলাইয়ার দ্বীপপুঞ্জের পোলাসি দ্বীপের পশ্চিমের সাগরে কেএম নুরুল সালসা ডুবে যায়। ওই ঘটনায় ৫৮ জন আরোহীকে জীবিত ও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আরও ১৪ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এর আগের মাসে মাদুরা দ্বীপের কাছে আরেকটি ফেরিতে আগুন লেগে যাওয়ায় পাঁচজন নিহত হন।


এফএ