আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
মাত্র ১৮ ঘণ্টার এক তীব্র সামরিক অভিযানের পর লোহিত সাগরের উপকূলের ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো দখল করে নিয়েছে হুথিরা। এর মধ্য দিয়ে পুরো লোহিত সাগর উপকূল তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।
আলজাজিরার এক সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা শহর থেকে সরকারি বাহিনী আগেই সরে যাওয়ায় দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় হুথি যোদ্ধারা তেমন কোনো প্রতিরোধের মুখে পড়েনি। দ্রুত অগ্রসর হয়ে তারা প্রথমে ধুবাব এবং পরে মুরাদ দখল করে নেয়। মুরাদ ছিল লোহিত সাগর উপকূলে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা সর্বশেষ শহর।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্থল অভিযানের পাশাপাশি সমুদ্রপথেও অভিযান চালায় হুথিদের নৌবাহিনী। বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে প্রবেশ করে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
এরপর তাদের বাহিনী জুকার দ্বীপের দিকে অগ্রসর হয়। সেখানে হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সরকারি বা প্রতিপক্ষ বাহিনীর সংঘর্ষ এখনো চলছে বলে জানিয়েছেন আলজাজিরার ওই সংবাদদাতা।
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, লোহিত সাগর উপকূলের পুরোটা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি হুথিদের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে মায়ুন ও জুকার দ্বীপের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা বাব আল-মান্দাব প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ। এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে চলে গেলে লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজের ওপর তাদের প্রভাব আরও বাড়তে পারে। এতে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের ওপরও তৈরি হতে পারে বাড়তি চাপ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হুথি ও সরকারি বাহিনীর এই লড়াই এখন শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাত নয়, এতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও নতুন করে উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স
এমএইচআর