আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের (প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট) উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এই প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি প্রস্তাবটির নাম দিয়েছেন ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’।
ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সুফল হিসেবে এই অর্থ নাগরিকদের দেওয়া হবে। তবে এই অর্থ কীভাবে দেওয়া হবে বা এর অর্থের উৎস কী হবে—তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
তিনি শুধু বলেছেন, প্রস্তাবিত অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই ব্যয় করতে হবে। অর্থাৎ এই অর্থ বিদেশে গিয়ে খরচ করা যাবে না।
এদিকে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৪ কোটি মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দিতে গেলে মোট ব্যয় ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে। এ নিয়ে প্রস্তাবটির অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হিসাবে ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে, যা সরকারের ওপর বিপুল আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে।
এদিকে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নযোগ্য কি না, তা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে এমন সময়ে এই প্রশ্ন উঠছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে পণ্যের দাম বাড়ছে, যার একটি কারণ হিসেবে ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধকে উল্লেখ করা হচ্ছে।
বিরোধীদল ডেমোক্র্যেটিক পার্টি ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ‘ফাঁকা প্রতিশ্রুতি’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
এছাড়াও শুধু প্রেসিডেন্টের ঘোষণা দিলেই এই অর্থ বিতরণ করা সম্ভব নয়; এর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া লাগতে পারে। ট্রাম্পের হাতে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এমন অর্থ সরাসরি বিতরণের ক্ষমতা আছে কি না, তা নিয়েও আইনগত প্রশ্ন রয়েছে।
তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ধনী আমেরিকানরা হয়তো এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হবেন না। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের পের আরোপিত ট্রাম্পের শুল্কনীতি থেকে অর্জিত রাজস্ব থেকে এই অথের একটি বড় অংশ জোগান দেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের এই ঘোষণা রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। নভেম্বরের নির্বাচনে দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জন্য রিপাবলিকানদের প্রচারণায় ট্রাম্প নিজেকেই প্রধান মুখ হিসেবে তুলে ধরছেন। তার এই ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতিকে তাই অনেকেই ভোটারদের আকৃষ্ট করার বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি
এমএইচআর