আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের উত্তেজনার মধ্যেই ইরাকের জলসীমায় তেলবাহী একটি ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় ট্যাংকারটিতে আগুন ধরে গেলেও ২২ জন ক্রু সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টম্বর) ভোরে ইরাকের আঞ্চলিক জলসীমায় পানামার পতাকাবাহী ‘নিউ অ্যান্ড্রোস’ নামের তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন আঘাত হানে। জাহাজটি প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরাকি ফুয়েল অয়েল বহন করছিল।
ইরাকি বন্দরের দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৬টার দিকে হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যয়। পরে উদ্ধারকারী নৌযান ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ইরাকের তেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় জাহাজটির হুলে সামান্য্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে কেউ আহত হননি এবং জাহাজে থাকা তেল পানিতে ছড়িয়ে পড়েনি।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ট্যাংকারটি ইরাকি তেল পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য ভাড়া করা হয়েছিল এবং সংরক্ষণ ও পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
হামলার দায় এখনো কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের জলপথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত দ্রুত তীব্র হচ্ছে।
এদিকে ব্রিটিশ নৌ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ওমান উপসাগরে বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। এসব হামলায় জাহাজগুলোর চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
এছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পোর্ট রশিদের কাছেও আরেকটি সামুদ্রিক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।
ইউকেএমটিও জানিয়েছে, বন্দরের প্রায় ২৪ নটিক্যাল মাইল দূরে নোঙর করে থাকা একটি জাহাজকে কাত হয়ে থাকতে দেখা যায়। অজ্ঞাত কোনো বস্তুর আঘাতে জাহাজটিতে পানি ঢুকেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকারী ২০টি জাহাজে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইরান।
তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ডুবিয়ে দেওয়ার পর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়, যা গত ২৪ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।
সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি
এমএইচআর