আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২০ পিএম
হরমুজ প্রণালির পর এবার ওমান উপসাগর ও আরব সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, চাবাহার বন্দর থেকে বিস্তৃত একটি সামুদ্রিক এলাকাকে ‘নিষিদ্ধ এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। ওই এলাকায় চলাচলকারী যেকোনো জাহাজ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বে।
আইআরজিসির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, চাবাহার থেকে শুরু করে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের কিছু অংশজুড়ে এই সীমাবদ্ধ এলাকা নির্ধারণ করা হবে। তবে ঠিক কোন কোন স্থান এর আওতায় পড়বে, তার সুনির্দিষ্ট স্থানাঙ্ক পরে প্রকাশ করা হবে।
মুখপাত্র আরও জানান, ঘোষিত এলাকায় কোনো জাহাজ প্রবেশ বা চলাচল করলে সেটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের এই ঘোষণা এসেছে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি পরিবহন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে রোববার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালির বাইরে একটি সামুদ্রিক এলাকাকে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সীমিত বা নিষিদ্ধ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
এদিকে ইরানের এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে এর প্রভাব শুধু ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। হরমুজ প্রণালির সঙ্গে সংযুক্ত ওমান উপসাগর ও আরব সাগর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। ফলে সেখানে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা, তেলের বাজার এবং আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে অবশ্য এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ বা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ সম্পর্কে এখনো পরিষ্কারভাবে কিছু জানানো হয়নি। সুনির্দিষ্ট স্থানাঙ্ক প্রকাশের পরই বোঝা যাবে, নিষিদ্ধ এলাকা কতটা বিস্তৃত এবং আন্তর্জাতিক নৌপথের ওপর কি ধরণের প্রভাব পড়বে।
অন্যদিকে ইরানের এই ঘোষণাকে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালির বাইরে সমুদ্রাঞ্চলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আলজাজিরা, টাইমস অব ইসরায়েল
এমএইচআর