Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

নতুন মানচিত্রে অরুণাচল-আকসাই চিনকে ভারতের সীমানার বাইরে দেখাল জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম

জাতিসংঘের নতুন বিশ্বমানচিত্রে ভারতের নিজস্ব ভূখণ্ড দাবি করা অরুণাচল প্রদেশ ও আকসাই চিনকে ভারত ও চীনের পৃথক দাবি করা সীমানার (ইন্ডিয়ান লাইন ও চাইনিজ লাইন) মাঝখানে স্বতন্ত্র অঞ্চল হিসেবে দেখানো হয়েছে। এতে মানচিত্রে ভারতের সীমানা বিকৃতির অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ ও আপত্তি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। 

গত ১ জুলাই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নতুন মানচিত্রটি প্রথম প্রকাশ করা হয় এবং গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে জনসম্মুখে আসে। আফ্রিকান ইউনিয়নের সমর্থিত প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানচিত্র আরও নির্ভুল ও সমতাভিত্তিক উপস্থাপন নিশ্চিত করা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন মানচিত্রে অরুণাচল প্রদেশকে ভারতের একটি অংশ হিসেবে সরাসরি দেখানোর পরিবর্তে পৃথক অঞ্চল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সেখানে অরুণাচলের সঙ্গে নাগাল্যান্ডের সীমান্তও দেখানো হয়নি; বরং অঞ্চলটিকে আসাম ও চীনের সঙ্গে সীমান্তযুক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে।

অন্যদিকে, আকসাই চিনকেও পৃথক অঞ্চল হিসেবে দেখানো হয়েছে। মানচিত্রে এর পশ্চিম দিকে ভারতের সঙ্গে এবং পূর্ব দিকে চীনের সঙ্গে সীমান্ত দেখানো হয়েছে। আকসাই চিনকে ভারত লাদাখের অংশ হিসেবে দাবি করে, যদিও অঞ্চলটি বর্তমানে চীনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। 

জাতিসংঘ কেন এভাবে দুই অঞ্চলকে উপস্থাপন করেছে, সেই বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

এ ছাড়াও মানচিত্রে জম্মু ও কাশ্মীরের ক্ষেত্রেও ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি ডটেড বা বিন্দুযুক্ত রেখা ব্যবহার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জাতিসংঘের ফুটনোটে বলা হয়েছে, এই রেখাটি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখাকে আনুমানিকভাবে নির্দেশ করে। একই সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরের চূড়ান্ত মর্যাদা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো সমঝোতা হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতের অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া

‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ প্রস্তাবটি ভারত সমর্থন করলেও নয়াদিল্লি স্পষ্ট করেছে, এর অর্থ কোনো নির্দিষ্ট মানচিত্র বা জাতীয় সীমান্তের নির্দিষ্ট উপস্থাপনাকে অনুমোদন করা নয়। 

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ এবং অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও সার্বভৌম অংশ। ভারতের ভৌগোলিক সীমানার কোনো ধরনের ভুল বা বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন ভারতের কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তবে জাতিসংঘের নতুন মানচিত্রে অরুণাচল ও আকসাই চিনের এই উপস্থাপন নিয়ে চীনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, অরুণাচল প্রদেশকে কেন্দ্র করে ভারত ও চীনের মধ্যে এই ভূরাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিরোধ বহু দশকের পুরোনো। চীন এই রাজ্যটিকে ‘দক্ষিণ তিব্বত’ বা তাদের ভাষায় ‘জাংনান’ বলে দাবি করে।

অন্যদিকে ভারত দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, অরুণাচল প্রদেশ দেশটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। একইভাবে আকসাই চিনসহ পুরো লাদাখকে ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে নয়াদিল্লি। 

আর চীনের দাবি, অরুণাচল প্রদেশ (বিশেষ করে তাওয়াং অঞ্চল) ঐতিহাসিকভাবে তিব্বতের অংশ ছিল, যেহেতু তিব্বত এখন চীনের অংশ, তাই এই অঞ্চলটিও তাদের। এছাড়াও ১৯১৪ সালে ব্রিটিশ ভারত এবং তিব্বতের মধ্যে সীমানা নির্ধারণকারী ‘ম্যাকমোহন লাইন’-কে চীন আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না।

নিজেদের দাবির পক্ষে চাপ তৈরি করতে চীন প্রায়ই অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন পাহাড়, নদী ও শহরের নতুন চীনা নাম ঘোষণা করে এবং নিজস্ব মানচিত্রে এটিকে চীনের অংশ হিসেবে দেখায়। 

সূত্র: এনডিটিভি, দ্য হিন্দু


এমএইচআর