আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জ্বালানি ও বেসামরিক ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে স্থাপনায় ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে চালানো এই হামলার কারণে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোসহ বেশ কিছু জ্বালানি স্থাপনায় আগুন ধরে যায় এবং সাময়িকভাবে উৎপাদন ও অন্যান্য কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হুথিরা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইরে অবস্থিত একটি সৌদি বিমানঘাঁটি এবং নিকটবর্তী আভা, ইয়েমেন সীমান্তবর্তী নাজরান ও লোহিত সাগরের প্রধান বন্দর জাজানে আরামকোর তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। হামলার পর কয়েকটি স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন।
ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু করার পর সৌদি আরবের ওপর চালানো সবচেয়ে বড় হামলা উল্লেখ করেছে মন্ত্রণালয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আহত ৭৩ জনের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হুথিদের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগজনক।
পৃথক বিবৃতিতে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার কারণে কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তবে স্থাপনা ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অনুমোদিত পরিচালন পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির পর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ ডলারে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের (ডব্লিউটিআই) দামও ২ ডলারের বেশি বেড়ে ৯৩ দশমিক ৬৫ ডলারে পৌঁছায়।
এদিকে সৌদি শহরগুলোতে হামলার পরবর্তী পরিস্থিতির নিশ্চিত ছবি তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে হুথিরা একটি সীমান্ত এলাকায় সৌদি আরব থেকে আসা ট্রাকে হামলার পর বিস্ফোরণের ছবি প্রকাশ করেছে।
হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, ইয়েমেনে সৌদির সাম্প্রতিক পদক্ষেপের জবাব হিসেবেই হুথিরা পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে।
আরও পড়ুন
সৌদি ভূখণ্ডের আরও গভীরে বড় ধরনের অভিযান চালানোর ঘোষণা দেওয়া হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
অণ্যদিকে হুথিদের বিরুদ্ধে গঠিত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, হুথিদের এই ‘বিপজ্জনক’ উত্তেজনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষের আহত হওয়ার এই ঘটনাকে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন আল-মালিকি। একই সঙ্গে হুথিদের এই কর্মকাণ্ডকে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী উগ্র ও অপরাধমূলক আচরণ হিসেবে অভিযুক্ত করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইয়েমেনের রাজধানী সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান হামলার জের ধরে হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি আরবের মধ্যে তীব্র পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
গত জুলাই থেকে তারা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়ে লোহিত সাগরে সৌদি সংশ্লিষ্ট জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে হুথিরা। এর ফলে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিতি এলাকাগুলোতে বিমান হামলা চালাচ্ছে সৌদি জোট। একই সময়ে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে রিয়াদ, যেখানে রয়েছে বাংলাদেশ-পাকিস্তানসহ ১৪টি দেশ।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর