আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১০ এএম
দক্ষিণ লেবাননে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর তিন দিন ধরে চলা ইসরায়েলি হামলায় নারী ও শিশুসহ ২৭ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়েছেন।
নিহতদের অধিকাংশই নারী, শিশু ও প্যারামেডিক। বিমান হামলায় নাবাতিয়া এলাকা, বিশেষ করে আলি আল-তাহের উচ্চভূমির চারপাশে একটি ‘অগ্নিবলয়’ তৈরি হয় বলে স্থানীয়রা বর্ণনা করেছেন। খবর আরব নিউজের।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, লিতানি নদীর উত্তরে আলি আল-তাহের উচ্চভূমির কাছে অবস্থিত ঘনবসতিপূর্ণ শহর কাফর রুম্মানের একটি আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১২ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে দুটি শিশু ও চারজন নারী ছিলেন। আহতদের মধ্যে তিনটি শিশু এবং একজন প্যারামেডিক ছিলেন, যিনি পরে একই শহরে একটি গাড়িতে চালানো পৃথক ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন।
সপ্তাহান্তে ইসরায়েলি হামলায় আরব সেলিম, কাফর রুমান, নাবাতিয়া ও তার উপকণ্ঠ, মাইফাদুন, আল-কফুর এবং আল-রামাদিয়াকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, এতে ১১ জন নিহত এবং ২৬ জন আহত হন।
এই হামলাগুলো গত শুক্রবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত চলা আরেকটি হামলার পর চালানো হয়, যাতে নারী ও শিশুসহ চারজন নিহত এবং আরও ৩২ জন আহত হয়েছিলেন।
লেবাননের শ্রমমন্ত্রী মোহাম্মদ হায়দার মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মচারী হিবা আলী সাবাহর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন, যিনি সোমবার ভোরে কাফর রুমানের একটি আবাসিক ভবনে হামলার শিকার হয়ে তার স্বামী ও মেয়ের সাথে নিহত হন।
হায়দার বলেন, এই হামলায় তার দেবর ও তার পরিবার এবং তার শ্বশুরও প্রাণ হারান। লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি অপরাধের ইতিহাসে এটি আরও একটি সংযোজন, যা পরিবার এবং নিরাপদ আবাসিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার ব্যাপকতাকেই তুলে ধরে।
সোমবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় টায়ারের নিকটবর্তী উপকূলীয় শহর আল-মানসুরি এবং সীমান্তবর্তী শহর হুলায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়। রোববার রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের গভীরে অবস্থিত দেইর আল-জাহরানির একটি ভবন খালি করার জন্য সতর্কতা জারি করে এবং প্রায় ২২ মিনিট পরেই সেটি ধ্বংস করে দেয়।
ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের এই সর্বশেষ ঘটনায় নাবাতিয়েহ জেলা এবং তার আশেপাশের এলাকার গ্রামগুলো থেকে নতুন করে মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র এলা ওয়াওয়েয়া বলেছেন, হিজবুল্লাহ'র যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘনের জবাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। আইডিএফ বাহিনীর দিকে বিস্ফোরক বোঝাই একটি ড্রোন নিক্ষেপের পর এই ঘটনা ঘটে, যা আইডিএফকে গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করে।
এর ২৪ ঘণ্টারও কম সময় আগে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নাবাতিয়ায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন এবং গান্দুর হাসপাতালে হামলা চালায়, যাকে হায়দার “সকল আন্তর্জাতিক নিয়ম ও প্রথার চরম লঙ্ঘন” বলে বর্ণনা করেছেন।
তিনি এই ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের” আহ্বান জানিয়েছেন।
গত সপ্তাহের শেষে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘোষণা করে যে তারা আলি আল-তাহের পাহাড় এবং তার আশেপাশের এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
হিজবুল্লাহ এলাকাটিকে সামরিক স্থাপনা ও একটি কমান্ড সেন্টারসহ একটি সুরক্ষিত ঘাঁটিতে পরিণত করেছিল।
ইসরায়েল পাহাড়গুলো দখল করতে অগ্রসর হওয়ার আগে, হিজবুল্লাহ লেবাননের সেনাবাহিনীর কাছে এলাকাটি হস্তান্তর করার জন্য লেবাননের কর্তৃপক্ষের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। তাদের এই অস্বীকৃতির কারণ হিসেবে তারা বলে যে, তারা লিতানি নদীর উত্তরে তাদের অস্ত্র সমর্পণ করে না।
-এমএমএস