আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম
ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে মাত্র কয়েক মাস আগে বিয়ে করা স্ত্রীকে হত্যা ও মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফ্রিজে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন অভিযুক্ত স্বামী।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, গুয়াহাটির বশিষ্ঠপুরে বেলতলা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। নিহত নারীর নাম রিয়া তালুকদার গোস্বামী। তার স্বামী রামানুজন গোস্বামী।
পুলিশ জানায়, গতকাল রোববার প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ফ্ল্যাটটি থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। পরে পুলিশ ফ্ল্যাটের দরজা খুলে ভেতরে নারীর খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ দেখতে পায়। তার আঙুলগুলোও অর্ধেক কাটা অবস্থায় ছিল। তবে মরদেহের মাথা পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে একটি ফ্রিজের ভেতর পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় তার কাটা মাথা উদ্ধার করা হয়।
তদন্তকারীরা আরও জানান, মরদেহটির অবস্থা দেখে হত্যাকাণ্ডটি অন্তত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগে (সম্ভবত শুক্রবার বা শনিবার) ঘটানো হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো অস্ত্র ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে রক্তের দাগ, অস্ত্রসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিবেশীরা জানান, শনিবারও ওই ঘর থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শোনা গিয়েছিল এবং সেদিন রাত ৮টার পর থেকে ওই দম্পতিকে দেখা যাচ্ছিল না এবং তাদের ফোনও বন্ধ ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহত রিয়া গুয়াহাটির ফ্যান্সি বাজারের একটি বুটিকে কাজ করতেন এবং অভিযুক্ত স্বামী রামানুজন পেশায় একজন গাড়িচালক ছিলেন।
ঘটনার পর রামানুজনকে খুঁজতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। তবে রোববার তিনি নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
পুলিশের কাছে দেওয়া প্রাথমিক বক্তব্যে রামানুজন দাবি করেছেন, স্ত্রীর সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার সন্দেহ ছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের এসব বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে। হত্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ ও ফরেনসিক তদন্ত চলছে। হত্যার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএইচআর