আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে বিপুল অর্থের প্রয়োজন মেটাতে নতুন রাজস্বের উৎস খুঁজছে ইউক্রেন। দেশটির পার্লামেন্টে প্রস্তাবিত একটি বিলের মাধ্যমে পর্ণোগ্রাফিকে বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই খাত থেকে অর্জিত রাজস্ব সামরিক সরঞ্জাম ও ড্রোন কেনাসহ যুদ্ধের ব্যয়ে ব্যবহার করা হবে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানোনো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবটির অন্যতম উদ্যোক্তা ইউক্রেনীয় পার্লামেন্টের অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান ও আইনপ্রণেতা ইয়ারোস্লাভ ঝেলেজনিয়াক।
তিনি দাবি করেছেন, পর্ণোগ্রাফি শিল্পকে নিয়ন্ত্রণ ও করের আওতায় এলে বছরে সর্বোচ্চ ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার পর্যন্ত রাজস্ব পাওয়া যেতে পারে, যা দিয়ে প্রায় ৩০ হাজার সামরিক ড্রোন কেনা যেতে পারে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, বর্তমানে ইউক্রেনে পর্ণোগ্রাফিক কনটেন্টের উৎপাদন ও বিতরণ আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, বিশেষ করে ‘অনলিফ্যানস’-এর মাধ্যমে দেশটির অনেক নাগরিক এই খাতে আয় করছেন।
অনলিফ্যানসের মূল সংস্থা ফিনিক্স ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৭ হাজার ৯০০ জন ইউক্রেনীয় অনলিফ্যানসের মাধ্যমে ১৩ কোটি ১০ লাভ ডলারেরও বেশি আয় করেছেন।
তবে এ নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়, যখন সরকারের আয়কর বিভাগ তাদের কাছ থেকে কর নেওয়া শুরু করে। নিয়ম মেনে কর দিতে গেলে কনটেন্ট ক্রিয়েটররা উল্টো অবৈধ কাজের অপরাধে পুলিশের মামলার শিকার হচ্ছিলেন। ফলে প্রস্তাবিত আইন এই দ্বন্দ্ব দূর করার পাশাপাশি শিল্পটিকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আনার লক্ষ্যেও কাজ করছে।
২০২৬ সালের জুলাইয়ে বিলটি ইউক্রেনের পার্লামেন্টে প্রথম ধাপে অনুমোদিত হয়। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত আইন নয়। আরও আলোচনা, সংশোধন ও পরবর্তী ভোটের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
তবে উদ্যোগটি নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। সমালোচকেরা সামাজিক ও নৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
ইউক্রেনের পুলিশ প্রধান ইভান ভিহিভস্কি আগেই পর্ণোগ্রাফি ডিক্রিমিনালাইজ করার বিরোধিতা করেছিলেন এবং শিশুদের ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছিলেন।
অন্যদিকে ইউক্রেনের একটি বড় অংশ ঐতিহ্যগতভাবেই খ্রিস্টান ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী। দেশটির বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন এবং রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলোর মতে, পর্নোগ্রাফি বৈধ করা হলে সমাজে নৈতিক অবক্ষয় দেখা দেবে এবং এটি পারিবারিক কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সমালোচকদের একাংশ- বিশেষ করে নারী অধিকার কর্মীরা আশঙ্কা করছেন, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক তরুণ-তরুণী বাধ্য হয়ে এই পেশায় জড়াতে পারেন। এর ফলে মানবপাচার, জবরদস্তি এবং নারীদের পণ্য হিসেবে ব্যবহারের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ ইউক্রেনকে অপ্রচলিত রাজস্বের উৎস খুঁজতে বাধ্য করছে। পর্ণগ্রাফি শিল্প বৈধ ও করযোগ্য হলে তা সরকারের জন্য অতিরিক্ত অর্থের জোগান দিতে পারে। তবে প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হবে কি না এবং হলে এর আর্থিক সুফল কতটা হবে—তা নির্ভর করছে পার্লামেন্টের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।
সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, এনডিটিভি
এমএইচআর