Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

ইন্দোনেশিয়ার ৭ বিমানবন্দর বন্ধ, আটকা আড়াই লাখ যাত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম

ভয়াবহ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে বিপর্যস্ত ইন্দোনেশিয়ার আকাশপথ। দেশটির সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাইয়ে বন্ধ হয়ে গেছে রাজধানী জাকার্তাসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক বিমানবন্দর। বাতিল, বিলম্বিত হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৩০০টি ফ্লাইট। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি যাত্রী। 

গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে শুরু হওয়া অগ্ন্যুৎপাত প্রায় ২৫ ঘণ্টা ধরে চলার পর এর তীব্রতা কমলেও আগ্নেয়গিরি থেকে এখনো ছাই ও গ্যাস নির্গত হচ্ছে। সোমবারও মাঝারি মাত্রার অগ্ন্যুৎপাত ও কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে।

1
আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরি

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাই বাতাসে ছড়িয়ে পড়ায় সোমবার পর্যন্ত সাতটি বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়। এর মধ্যে রাজধানী জাকার্তার দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর—সোকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও হালিম পারদানাকুসুমা বিমানবন্দর—রয়েছে। এসব বিমানবন্দর দিয়ে চলাচলকারী ফ্লাইটগুলোর সময়সূচিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অগ্ন্যুৎপাতের কারণে প্রায় ২ হাজার ৩০০টি ফ্লাইট বাতিল, বিলম্বিত অথবা অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে ২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি যাত্রী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন অসংখ্য দেশি-বিদেশি যাত্রী।

মূলত, আগ্নেয় ছাইয়ের মেঘ কিছু এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় উঠে গেছে। ছাইয়ের গতিপথ বাতাসের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হওয়ায় বিমান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার বিষয়টি জটিল হয়ে উঠেছে। বিমান ইঞ্জিনে আগ্নেয় ছাই ঢুকে গেলে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিমানবন্দর বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে শুধু বিমান চলাচল নয়, আগ্নেয় ছাইয়ের প্রভাব পড়েছে জনজীবনেও। ছাই থেকে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে জাকার্তা, পশ্চিম জাভা, বানতেন ও লাম্পুংয়ের কিছু স্কুলে সরাসরি পাঠদান বন্ধ রেখে অনলাইন ক্লাস চালু করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম আগ্নেয়গিরি প্রবণ দেশ, যেখানে প্রায় ১৩০টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে। দ্বীপরাষ্ট্রটি মূলত প্যাসিফিক ‘রিং অব ফায়ারের’ ওপর অবস্থিত। ইউরেশীয়, প্রশান্ত মহাসাগরীয় এবং ইন্দো-অস্ট্রেলীয় টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার কারণে এখানে ঘনঘন আগ্নেয়গিরির তৎপরতা দেখা যায়। 

আনাক ক্রাকাতাউয়ের অবস্থান জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মাঝামাঝি সুন্দা প্রণালিতে। আগ্নেয়গিরিটি ২০১৮ সালের একটি বিধ্বংসী অগ্ন্যুৎপাতের পর বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। ওই সময় আগ্নেয়গিরির একটি অংশ সাগরে ধসে পড়ে সুনামির সৃষ্টি হয়, যেখানে চার শতাধিক মানুষ নিহত হন।

সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি

এমএইচআর