Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

ইন্দোনেশিয়ায় ৮ বিমানবন্দর বন্ধ, আটকা ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৭ এএম

আগ্নেয়গিরির উদগিরণের কারণে ইন্দোনেশিয়ার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ মোট আটটি বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যার ফলে রোববার চরম ভোগান্তিতে পড়েন প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী। বাতিল করা হয় শত শত ফ্লাইট।

ইন্দোনেশিয়ার ভূতাত্ত্বিক গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার মাউন্ট আগ্নেয়গিরি থেকে উদগিরণ শুরু হয়। লাভার বিকট শব্দ শত শত কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা গেছে। এরপর রোববার আগ্নেয়গিরিটিতে আরও দুইটি বিস্ফোরণ ঘটে। ফলে আগ্নেয়গিরির ছাই ও লাভা বায়ুমণ্ডলে ১৫০ কিলোমিটারের বেশি দূরে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রথমে রোববার রাত দেড়টা থেকে সকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত সুমাত্রা ও জাভার আকাশসীমায় আগ্নেয়গিরির ছাই দেখা যাওয়া। এরপর থেকে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখা হয়। পরবর্তীতে পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, স্থগিতাদেশ বাড়িয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়েছে।

ব্যান্ডুংয়ের হুসেইন সাস্ত্রানেগারা বিমানবন্দর এবং সুমাত্রার বান্দারল্যাম্পুংয়ের রাদিন ইন্তেন টু বিমানবন্দরসহ মোট আটটি বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দরগুলোতে মোট ১,৫৮৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন।

এর মধ্যে শুধু রাজধানী জাকার্তার সোকার্নো-হাট্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৯০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেমারাং ও সুরাবায়ার কিছু বিমানবন্দরকে বিকল্প অবতরণ কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় অনেক যাত্রী বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ৪৪ বছর বয়সী হেননি ইয়েনসান নামের এক যাত্রী জানান, ‘মায়ের সঙ্গে নিজের শহরে ফেরার কথা থাকলেও ফ্লাইট বন্ধ থাকায় সবাই বেশ হতাশ হয়েছেন। তবে এটি যেহেতু প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তাই রাগ না করে অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’

ব্যবসায়ী স্যামুয়েল গিবের্তো বলেন, ‘ব্যবসায়িক কাজে লম্বক দ্বীপে এসে আটকা পড়েছি। রাজধানীতে ফেরার জন্য বিকল্প ফ্লাইট খুঁজছি। কিন্তু এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

অন্য এক যাত্রী বলেন, ‘আমি আরেকটি ফ্লাইটের টিকিট পেয়েছিলাম। কিন্তু সেটিও শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে গেছে। এখন বাধ্য হয়ে লম্বককেই অবস্থান করতে হচ্ছে।’