Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

দিল্লিতে ভবন ধস: মৃত ৩, ধ্বংসস্তূপে আটকেপড়াদের বাঁচার আকুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২২ পিএম

ভারতের রাজধানী দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় ছয়তলা একটি ভবন ধসে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আটকেপড়াদের বাঁচার আকুতি ও চিৎকার শোনা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে থাকা শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে সত্য নিকেতন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ধসে পড়া ভবনটি প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছরের পুরোনো বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভবনটি ৭৫ শয্যার পেইং গেস্ট (পিজি) আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেখানে মূলত দিল্লির বাইরে থেকে পড়াশোনা করতে আসা শিক্ষার্থীরা থাকতেন।

ঘটনার পরপরই দিল্লি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং জেলা দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। এখন পর্যন্ত অন্তত নয়জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে অভিযান চলছে। ধ্বংসস্তূপ সরাতে এক্সকাভেটরসহ ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের অন্তত ১২টি গাড়ি পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

ভারতে রাতের অন্ধকারে ১৫০ বছরের পুরোনো মসজিদ গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

উদ্ধার অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দা ও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যোগ দিয়েছেন। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে সাহায্যের জন্য মানুষের চিৎকার শোনা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে থাকা এক শিক্ষার্থী। স্থানীয়দের ধারণা, দুর্ঘটনার সময় ভবনের ভেতরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ ছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই শিক্ষার্থী।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভবনটির বেজমেন্টে কিছুদিন ধরে মেরামতের কাজ চলছিল। ওই কাজের সময়ই ভবনটি ধসে পড়ে। তবে ঠিক কী কারণে ভবনটি ধসে পড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Delhi2

ঘটনার ভয়াবহতা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী উন্নয়ন। বুলন্দশহর থেকে দিল্লিতে পড়াশোনা করতে আসা ওই তরুণ সত্য নিকেতনের একটি পিজিতে থাকতেন। রোববার সকালে নতুন বাসা খুঁজতে বেরিয়েছিলেন তিনি। এক ব্রোকারের স্কুটারে করে ফ্ল্যাট দেখতে যাওয়ার সময় তার চোখের সামনেই ভবনটি হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে।

উন্নয়ন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তিনি তখনই স্কুটারে উঠেছিলেন এবং তারা রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে তার চোখের সামনেই পুরো ভবনটি ধসে পড়ে। স্কুটারটি যদি আরেকটু এগিয়ে থাকত, তাহলে তারাও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়তেন বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন

‘ভেজাল মদ’ পান করে ভারতে ৯ জনের মৃত্যু

সত্য নিকেতন এলাকাটি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বসবাস করেন। এলাকায় রয়েছে অসংখ্য পিজি ও ভাড়াবাড়ি। ফলে ভবন ধসের ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাশের একটি ভবনও খালি করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে ভিড় করেছেন শত শত মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকারীরা পৌঁছানোর আগেই নিজেদের উদ্যোগে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতেও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা একজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। তিনি আটকে পড়াদের দ্রুত ও নিরাপদে উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানোর কথা জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকারও আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।

Delhi3

ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। তিনি জানান, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী, পুলিশ কমিশনার ও এনডিআরএফের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও এনডিআরএফের সমন্বয়ে উদ্ধার অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন

ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি বিমানবন্দরে হাঁটুপানি, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

এদিকে ভবন ধসের ঘটনায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন আম আদমি পার্টির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ। ভবন নির্মাণ ও পরিদর্শন ব্যবস্থায় অনিয়মের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন আটকা পড়ে আছেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। উদ্ধারকারীরা একের পর এক কংক্রিটের স্ল্যাব ও বিম সরিয়ে জীবিতদের সন্ধান করছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আসা প্রতিটি শব্দ ও বাঁচার আকুতির দিকে সতর্ক নজর রাখছেন উদ্ধারকারীরা। তাদের লক্ষ্য—যত দ্রুত সম্ভব আটকে পড়া সবাইকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনা। সূত্র: আনন্দবাজার, দ্য ওয়াল, এনডিটিভি

জেবি