আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৩ পিএম
আগামী নভেম্বরের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রিপাবলিকান পার্টিকে রাজনৈতিক চাপে ফেলতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও কয়েক মাস দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা করছে ইরান।
মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাতে সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে লড়াই করবে রিপাবলিকানরা।
মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাত এখনো সীমিত পর্যায়ে থাকলেও ইরানের নেতৃত্ব বড় ধরনের উত্তেজনা বা সংঘাত বাড়ানোর পরিকল্পনা করতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানার সক্ষমতা নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। তেহরানের ধারণা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতি আকাশচুম্বী হবে। আর এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপর।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু সামরিক সংঘাতই নয়, ইরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয়। মার্কিন ভোটারদের প্রভাবিত করতে এবং ট্রাম্পের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ‘রিপাবলিকান-বিরোধী’ প্রচারণাও চালাচ্ছে।
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধকে বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নেওয়া থেকে ঠেকাতে চাইছেন। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম এবং যুদ্ধ নিয়ে জনঅসন্তোষ রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় এমন ধারণাও রয়েছে যে, নির্বাচনের পর সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
অন্যদিকে এই পরিস্থিতিতে ইরানের সম্ভাব্য কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তেহরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সামরিক চাপ বাড়ায়, বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি, মিত্র দেশ কিংবা গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তাহলে ওয়াশিংটনের জন্য সংঘাত সীমিত রাখা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এছাড়াও বর্তমানে মার্কিন জনমতও ট্রাম্পের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়।
রয়টার্স-ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপে মাত্র ২৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনকে সমর্থন জানিছেন। অর্থাৎ যুদ্ধ নিয়ে জনসমর্থন বেশ সীমিত। নভেম্বরের নির্বাচনের আগে এই অসন্তোষ আরও বাড়লে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য তা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
রয়টার্স বলছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে অস্থিরতা বাড়লে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে সংঘাতের কারণে জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তেলের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে তা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স
এমএইচআর