আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ১০ দিন পর দেশটির একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে এক চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। পৃথকভাবে একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে এক নেপালি নারীকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারীরা।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) নেপাল সেনাবাহিনী ও দক্ষিণ কোরিয়ার এক যৌথ দুর্যোগ মোকাবিলা দল আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে লুহাইতো নামের এক চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করে।
নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আকস্মিক বন্যার ফলে কাদা-মাটিতে সুড়ঙ্গের মুখ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রায় ২২৫ মিটার (৭৩৮ ফুট) গভীরে টানা ১০ দিন সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আটকে ছিলেন ওই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিক হিসেবে কর্মরত লুহাইতো। উদ্ধারের সময় অত্যন্ত ক্লান্ত ও কাদা-মাখানো অবস্থায় থাকলেও তিনি হাঁটতে পারছিলেন।
সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধারের নেপালি সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডু নিয়ে যাওয়া হয়েছে ওই চীনা নাগরিককে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় পানি ও কাদায় আটকে থাকার কারণে লুহাইতো হাইপোথার্মিয়ায় ভুগলেও তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
একই দিনে বন্যাবিধ্বস্ত নুয়াকোট জেলার বেত্রাবতী গ্রামে একটি চারতলা বাড়ির ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ৬৪ বছর বয়সী চণ্ডিকা শ্রেষ্ঠ নামের এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করে নেপালি সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী। পাহাড়ি ঢল ও ধসে সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বাড়িটির ওপরের তলায় টানা ১০ দিন আটকে ছিলেন তিনি।
উদ্ধারকর্মীরা কাদা ও ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে তাকে বের করে প্রাথমিক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে পৃথক দুটি অভিযানে এই দুইজনকে উদ্ধারের ঘটনা উদ্ধারকারী দল ও নিখোঁজদের স্বজনদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহ ধসের পর ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি হয়। এতে নদীর পানি ও কাদার স্রোতে বহু ঘরবাড়ি, সড়ক ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপালে ১ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং এখনো ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার ত্রিশূলি-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে সঞ্জয় শাহ ও কবির মহারজন নামে দুই নেপালি শ্রমিককে নয় দিন পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে দুর্গত এলাকা থেকে একাধিক মানুষকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা সামনে এলো।
উদ্ধারকারীরা বলছেন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর প্রায় ৯০০ কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই জীবিত উদ্ধারের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো উদ্ধার অভিযানে নতুন গতি এনে দিয়েছে।
কাদায় ভরা ও ক্ষতিগ্রস্ত সুড়ঙ্গ, বিশাল ধ্বংসস্তূপ এবং নতুন করে ভূমিধসের ঝুঁকির মধ্যেও নেপালি সেনাবাহিনী, স্থানীয় উদ্ধারকারী দল এবং ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট, এনডিটিভি
এমএইচআর