আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৮ এএম
জার্মানির লিপজিগ বিমানবন্দরে বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন দিয়ে হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। জার্মান সরকারের দাবি, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো হামলা নয়। ইউরোপজুড়ে রাশিয়ার চলমান ‘হাইব্রিড অভিযানের’ অংশ হিসেবেই এ হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ারও দাবি করেছে বার্লিন।
মঙ্গলবার জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট বলেন, ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তিরা রুশ রাষ্ট্রীয় সংস্থার হয়ে কাজ করছিলেন, এমন প্রমাণ তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুলকে পাশে রেখে ডোব্রিন্ট বলেন, ‘পুলিশের তদন্ত, অপরাধের ধরন এবং গোয়েন্দা তথ্য-সবকিছু মিলিয়ে এই হামলার চেষ্টার জন্য রাশিয়ার দায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই ফেডারেল সরকার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, এই হাইব্রিড হামলার জন্য রাশিয়া দায়ী।’
গত ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় বিমানবন্দরে একটি ইউক্রেনীয় কার্গো বিমানের কাছে ড্রোনটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে সেটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।
ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়া ইউরোপের কয়েকটি দেশ সম্প্রতি নাশকতা ও এ ধরনের হামলার চেষ্টার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। এসব ঘটনার জন্য তারা রাশিয়াকে দায়ী করছে।
ডোব্রিন্ট বলেন, জার্মান কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখছে না। তার ভাষায়, ‘এটি ইউরোপজুড়ে রাশিয়ার বৃহত্তর হাইব্রিড অভিযানের একটি অংশ।’
রাশিয়ার বিরুদ্ধে জার্মানির পাল্টা পদক্ষেপ
ওয়াডেফুল বলেন, ঘটনার জবাবে জার্মানি একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন শহরে অবস্থিত রুশ কনস্যুলেট জেনারেল এবং বার্লিনের রুশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ‘রাশিয়ান হাউস’ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাঠামোর মাধ্যমে রুশ নাগরিকদের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা ও ভ্রমণ বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নেবে জার্মানি। পাশাপাশি রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হবে বলে জানান ওয়াডেফুল।
জার্মানির এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, বার্লিনের ‘রাশিয়াবিরোধী কর্মকাণ্ডের’ জবাব দেবে মস্কো। রুশ বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স এ তথ্য জানিয়েছে।
ইউরোপজুড়ে রুশ নাশকতার সন্দেহ
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউরোপজুড়ে রাশিয়ার নাশকতা ও গুপ্তচরবৃত্তিমূলক তৎপরতা নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে। বিশেষ করে ইউক্রেন ড্রোন হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার অবকাঠামোতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাওয়ার পর এ ধরনের সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।
লিপজিগ/হালে বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিমানবন্দরটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বিমানবন্দরটিতে ন্যাটোর ‘স্ট্র্যাটেজিক এয়ারলিফট ইন্টারন্যাশনাল সলিউশন’ বা সালিসের কার্যক্রমও রয়েছে। এটি বর্তমানে প্রায় প্রতিদিনই ফিনল্যান্ড থেকে রোমানিয়া পর্যন্ত ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সদস্য দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটিতে সরঞ্জাম সরবরাহ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর বিভিন্ন মিশনে সহায়তা দিয়ে থাকে।
জুলাইয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন রুশ সামরিক কর্মকর্তা, হ্যাকার এবং কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তাদের বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে সাইবার-গুপ্তচরবৃত্তি চালানোর অভিযোগ আনা হয়।
সোমবার পোল্যান্ডও ইউক্রেনকে সরবরাহ করা ড্রোনের যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী একটি কারখানায় সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ‘সন্ত্রাসবাদ’ তদন্ত শুরু করেছে। সূত্র: আল জাজিরা।
এমআর