Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশ-পাকিস্তান-ইতালিতে এলএনজি সরবরাহ বন্ধের মেয়াদ বাড়াল কাতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম

হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা সংকটের কারণে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইতালিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে ‘ফোর্স মেজর’ বা (অনিবার্য পরিস্থিতি)- এর মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি। ফলে সেপ্টেম্বরের পরও বাংলাদেশে কাতারের এলএনজি কার্গো বাতিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত। এই পরিস্থিতিতে কাতারএনার্জি এশিয়া ও ইউরোপের ক্রেতাদের জানিয়ে দিয়েছে যে নির্ধারিত এলএনজি কার্গো সরবরাহ বাতিলের মেয়াদ আরও কিছুদিন চলতে পারে। 

পাকিস্তানের ক্রেতাদের ক্ষেত্রে বাতিলের সময় অক্টোবর পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে। আর বাংলাদেশের সরবরাহও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। অন্যান্য ইউরোপীয় ক্রেতারাও এ বিষয়ে নোটিশ পাঠানো শুরু করেছে কাতারএনার্জি।

ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এডিসন জানিয়েছে, ‘কাতারএনার্জি তাদের জানিয়েছে যে, তারা ইতালির অ্যাড্রিয়াটিক এলএনজি রিসিভিং টার্মিনালে নির্ধারিত অতিরিক্ত পাঁচটি এলএনজি কার্গো সরবরাহ করতে পারবে না। এর ফলে ইতালিতে তাদের ‘ফোর্স মেজর’-এর মেয়াদ নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত বাড়ছে। এখন পর্যন্ত এডিসনের চুক্তির আওতায় মোট ২৯টি কার্গো এই স্থগিতাদেশের আওতায় পড়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস।

প্রসঙ্গত, কাতার বিশ্বের অন্যতম বড় এলএনজি রফতানিকারক। তবে চলতি বছরের মার্চের শুরুতে কাতারের প্রধান জ্বালানি হাব রাস লাফান এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্রে বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। এই হামলায় কাতারের গ্যাস তরলীকরণ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে দেশটির মোট এলএনজি রফতানি সক্ষমতা তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ১৭ শতাংশ কমে যায়।

ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে পুরোপুরি উৎপাদনে ফিরতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ আল-কাবি।

এই সংকটের কারণে কাতারএনার্জির এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ব্যাপকভাবে মার খেয়েছে। যুদ্ধের প্রথম ৬ মাসে কাতার যেখানে মাত্র ১৮টি কার্গো রপ্তানি করতে পেরেছে, সেখানে গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫০৯টি। এর ফলে কাতারের গ্যাস বিক্রি থেকে আয় কমেছে প্রায় ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

যদিও কাতার নির্দিষ্ট কোনো একটি দীর্ঘ মেয়াদের জন্য একবারে ফোর্স মেজার ঘোষণা করেনি; বরং তারা পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রতি মাসে মাসেএর মেয়াদ বাড়িয়ে আসছে।

এদিকে কাতারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি করে দেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণ করে বাংলাদেশ। বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও সার উৎপাদনে গ্যাসের ওপর বাংলাদেশের বড় ধরনের নির্ভরতা রয়েছে। ফলে কাতারের সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহের প্রয়োজন হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, কাতারের এলএনজি সরবরাহ দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে এশিয়ার আমদানিনির্ভর দেশগুলোকে বিকল্প উৎসের দিকে যেতে হবে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বাড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো যেসব দেশ কাতারের গ্যাসের ওপর তুলনামূলক বেশি নির্ভরশীল, তাদের ঝুঁকি আরও বেশি।

সূত্র: রয়টার্স, দোহা নিউজ

এমএইচআর